ফের প্যারোলে রাম রহিম! এবার কোন ‘বিশেষ’ কারণে মুক্তি?

ফের প্যারোলে রাম রহিম! এবার কোন ‘বিশেষ’ কারণে মুক্তি?

দুই মহিলা শিষ্যকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেলে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ডেরা সাচ্চা সৌদা প্রধান গুরমীত রাম রহিম সিং। তবে দীর্ঘমেয়াদি সাজা চললেও বন্দিজীবন যেন তাঁর ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না। ফের ৩০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন এই বিতর্কিত ধর্মগুরু। মঙ্গলবার হরিয়ানা সরকার তাঁকে এই বিশেষ মুক্তি দেয়, যার ফলে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে তাঁকে পুনরায় সুনারিয়া জেলে ফিরতে হবে। প্যারোলের এই নির্দিষ্ট সময়টাতে তিনি সিরসায় ডেরা সাচ্চা সৌদার সদর দফতরে অবস্থান করবেন।

বারবার প্যারোলের রেকর্ড এবং এর পেছনের কারণ

আইনি ইতিহাসে প্যারোল বা সাময়িক মুক্তি সাধারণত বন্দির বিশেষ মানবিক প্রয়োজন বা সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়। তবে রাম রহিমের ক্ষেত্রে এটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০১৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে এ নিয়ে তিনি মোট ১৬ বার প্যারোল বা ফার্লো পেলেন। প্রশাসনের দাবি, বন্দির ভালো আচরণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার নিয়ম মেনেই এই ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচক এবং রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হরিয়ানার রাজনীতিতে ডেরা সাচ্চা সৌদা এবং রাম রহিমের বিপুল ভোটব্যাংক ও প্রভাব রয়েছে। ফলে নির্বাচনের আগে বা বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণের সময়ে তাঁর এই ঘনঘন মুক্তি প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং রাজনৈতিক কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হয়।

আইনশৃঙ্খলায় সম্ভাব্য প্রভাব

রাম রহিমের মতো একজন হাই-প্রোফাইল সাজাপ্রাপ্ত আসামির বারবার জেলের বাইরে আসার ঘটনা সমাজ ও বিচারব্যবস্থায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সিরসার সদর দফতরে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক অনুগামী ও ভক্তদের সমাগম ঘটতে পারে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বারবার এমন আইনি শিথিলতা সাধারণ মানুষের মনে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে ক্ষোভ এবং সংশয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *