চলবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, অন্নপূর্ণার ফর্ম মিলবে বুধেই! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে নারী কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে এখনই বন্ধ হচ্ছে না ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প। বরং যতদিন না নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা দেওয়া পুরোদমে চালু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আগামী বুধবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সহজ প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছাবে সরকারি সাহায্য
নতুন এই প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে তৎপর প্রশাসন। জানা গেছে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী নবান্ন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ করবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই এই ফর্ম পাওয়া যাবে। উপভোক্তারা যত দ্রুত ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন, তত দ্রুত এই নতুন যোজনার সুবিধা তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে। ফর্ম পূরণের এই গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রতিটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের বিধায়করা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। এছাড়া ব্লক স্তরে বিডিওদের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সরাসরি সহযোগিতা করবেন।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও দূরগামী প্রভাব
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। হঠাৎ করে একটি বহুল প্রচলিত সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করে নতুন প্রকল্প চালু করলে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারত। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ চালু রেখে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত সেই আশঙ্কাকে দূর করবে। প্রশাসনিক স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণের উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের নারীরা কোনো রকম মধ্যস্বত্বভোগীদের হেনস্থা ছাড়াই সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। দ্রুত ফর্ম পূরণের তাগিদ দিয়ে প্রশাসন আদতে রাজ্যের একটি বড় অংশের নারী ভোটার ও উপভোক্তাদের কাছে নিজেদের সদিচ্ছার বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের সামাজিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।