চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় সংস্কার, স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে আলাদা হচ্ছে আয়ুষ!

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার চিরাচরিত ও বৈদিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘আয়ুষ’ (AYUSH)-কে মূল স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার কল্যাণী পরিযায়ী নিবাসে আয়োজিত এক ম্যারাথন প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণাটি করেন। একই সঙ্গে আগামী জুন মাস জুড়ে রাজ্যজুড়ে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচি পালনের কথাও জানান তিনি।
বৈদিক চিকিৎসায় জোর ও প্রশাসনিক সংস্কার
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, কল্যাণীর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে— বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যক্ষেত্রের আধুনিকীকরণ এবং প্রাক-বর্ষা পরিস্থিতির মোকাবিলা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই আয়ুষ নিয়ে একাধিক সদর্থক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই কাজের পরিধিকে আমজনতার স্বার্থে আরও ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে চায় রাজ্য।
এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই আয়ুষকে একটি স্বতন্ত্র দপ্তরের রূপ দেওয়া হচ্ছে, যার জন্য দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়া হবে। নতুন এই স্বাধীন দপ্তরের কাজের গতি বাড়াতে এবং সুপরিচালনার জন্য এর মাথায় বসানো হবে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিককে। সামগ্রিকভাবে গোটা বাংলা জুড়েই বৈদিক ও ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচার ও প্রসারে জোর দেবে এই নতুন রূপ পাওয়া দপ্তর।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল স্বাস্থ্যদপ্তরের ওপর কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকায় অনেক সময়ই আয়ুষের মতো বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন থমকে থাকে। এটিকে আলাদা করার মূল কারণ হলো এর পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে প্রাচীন ভারতীয় ও বৈদিক চিকিৎসা পদ্ধতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। ব্লক ও জেলা স্তরে আয়ুষের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর আধুনিকীকরণ হলে সাধারণ মানুষ কম খরচে বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি, জুন মাসে সরকারের ঘোষিত একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রামীণ ও শহরতলীর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।