বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে বল বদলের সিদ্ধান্ত, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ক্ষোভ মেটাতে এবার আসরে সৌরভ

বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে বল বদলের সিদ্ধান্ত, ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ক্ষোভ মেটাতে এবার আসরে সৌরভ

বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের আসন্ন মরসুম শুরুর আগেই বল বদল নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে ক্রিকেট মহলে। খরচ বাঁচানোর অজুহাতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ফর্ম্যাটের এই জনপ্রিয় প্রতিযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী ‘কোকাবুরা’ বলের পরিবর্তে ‘এসজি টেস্ট এলই’ বল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগের লিগেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার কথা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্রিকেটীয় যুক্তিকে উপেক্ষা করে বোর্ডের এমন আকস্মিক সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ ও কোচেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অসন্তোষ দূর করতে এবার স্বয়ং সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছেন বলে জানা গেছে।

খরচ বাঁচানোর জের বনাম ক্রিকেটীয় ক্ষতি

বিশ্বজুড়ে সমস্ত বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় কোকাবুরা বলকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর বিপরীতে এসজি বল সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘতম ফর্ম্যাটে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোকাবুরার তুলনায় এসজি বল অত্যন্ত দ্রুত নরম হয়ে যায় এবং বাতাসে কাঙ্ক্ষিত মুভমেন্ট পাওয়ার বদলে কিছুটা থেমে থেমে ব্যাটে আসে। এর ফলে বোলাররা যেমন নিজেদের স্কিল প্রদর্শন করতে সমস্যায় পড়বেন, তেমনই বড় শট খেলার ক্ষেত্রে ব্যাটারদেরও বেগ পেতে হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ক্রমাগত বড় শটের যে দাপট থাকে, বর্তমান এসজি বলের তা সহ্য করার ক্ষমতা নেই বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কোচেরা। আদতে এই বল বদলের সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের স্কোরবোর্ডে এবং সামগ্রিক খেলার মানে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সিএবির এই বিতর্কিত ভাবনার নেপথ্যে মূলত আর্থিক কারণ রয়েছে। ভারতে একটি এসজি টেস্ট এলই বলের দাম তিন থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে, যেখানে কোকাবুরা বলের দাম কয়েক গুণ বেশি। পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬২টি ম্যাচের লিগে কোকাবুরা বল ব্যবহার করলে সিএবির খরচ কয়েক লক্ষ টাকা বেড়ে যাবে। সেই বাড়তি খরচ বাঁচানোর তাগিদেই এমন ‘যুগান্তকারী’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

নেপথ্যে প্রশাসনিক বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বল বদল প্রক্রিয়ার পেছনে সিএবির যুগ্ম সচিব মদন ঘোষের হাত রয়েছে বলে ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গত ২১ মে সত্তর বছর পার হয়ে গেলেও তিনি পদ ছাড়তে নারাজ এবং এর আগেও খরচ কমানোর অজুহাতে বাংলার এক বয়সভিত্তিক দলকে কটক থেকে বাসে ফেরানো বা ময়দান থেকে রিজার্ভ আম্পায়ার তুলে নেওয়ার মতো একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। লিগ কমিটির প্রধান সমীরণ দাস বিষয়টিকে কারিগরি বা টেকনিক্যাল আখ্যা দিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন। তবে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট বক্তব্য, মাঠ, পিচ বা বলের মতো মৌলিক বিষয়ের সঙ্গে আপোষ করলে শেষ পর্যন্ত বাংলার ক্রিকেটের মানই নিম্নমুখী হবে। এখন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিদের ক্ষোভ প্রশমিত হয় নাকি সিএবি তাদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়, সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *