সবুজ মেরুনে বড় ধাক্কা, মোহনবাগানের সহ সভাপতি পদ ছাড়লেন কুণাল ঘোষ

কলকাতা ময়দানে ফের বড়সড় চমক। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নাকি নিছকই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে মোহনবাগান ক্লাবের সহ-সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কুণাল ঘোষ। ক্লাব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো নিজের ইস্তফাপত্রটি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ২০২২ সালে প্রথমবার এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালে দ্বিতীয় দফায় ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। তবে এবার সেই দায়িত্ব থেকে পাকাপাকিভাবে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক।
ইস্তফার নেপথ্যে আবেগ ও ইতিহাস
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত কারণ’ রয়েছে। পদ ছাড়লেও শৈশব থেকে জড়িয়ে থাকা ক্লাবের প্রতি তাঁর আবেগ যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা স্পষ্ট করেছেন তিনি। ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্তকে লেখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, জ্ঞান হওয়া থেকে তিনি মোহনবাগানী এবং এই লনেই তাঁর হাঁটা শেখা। অতীতে ক্লাব যখন কঠিন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, তখন সমর্থকদের বিপুল সই নিয়ে দিল্লিতে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) দপ্তরে যাওয়ার স্মৃতিও তিনি রোমন্থন করেছেন। তাঁর সময়েই ক্লাবে ‘স্পোর্টস লাইব্রেরি’ চালু হয়েছিল, যার জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি।
ময়দানে সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
কুণাল ঘোষের মতো একজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিত্বের আচমকা ইস্তফা মোহনবাগান অন্দরে এবং কলকাতার ফুটবল মহলে বেশ কিছু প্রশ্ন খাড়া করেছে। যদিও তিনি চিঠিতে সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বোসের নেতৃত্বে ক্লাবের আগামী দিনের অগ্রগতির কামনা করেছেন, তবুও তাঁর এই প্রস্থান ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। একজন সক্রিয় এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তা পদত্যাগ করায় ক্লাবের আগামী দিনের কিছু গঠনমূলক কাজে সাময়িক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তবে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পদাধিকারী হিসেবে না থাকলেও আজীবন তিনি মোহনবাগানের একজন সাধারণ সদস্য ও সমর্থক হিসেবে ক্লাবের পাশেই থাকবেন।