ইনজেকশন নাকি বিষ, রাজস্থানে ৫ অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক!

ইনজেকশন নাকি বিষ, রাজস্থানে ৫ অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যুতে ছড়াল তীব্র আতঙ্ক!

রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর ৫ অন্তঃসত্ত্বা নারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ব্যবহৃত ‘অক্সিটোসিন’ ইনজেকশনটি নকল হওয়ার কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে, ইনজেকশনটিতে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় মূল উপাদানটিই অনুপস্থিত ছিল। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনই এই দাবি পুরোপুরি মেনে নিতে নারাজ, তাদের মতে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে।

মৃত্যুর কারণ ও ভয়াবহ শারীরিক প্রতিক্রিয়া

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সূত্রে জানা গেছে, সন্তান প্রসবের পর নারীদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঠেকাতে সচরাচর এই অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী নারীদের ক্ষেত্রে এই ইনজেকশন দেওয়ার ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে শরীরে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আচমকাই তাদের রক্তচাপ এবং রক্তের প্লেটলেট আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করে। এর পরপরই আক্রান্তদের কিডনি বিকল হওয়ার মতো জটিল লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং শেষ পর্যন্ত তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তদন্তে প্রশাসন ও ওষুধ নিয়ে বড়সড় কেলেঙ্কারি

এই ঘটনার ভয়াবহতা অনুধাবন করে রাজস্থান সরকার ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে গোটা রাজস্থানে সংশ্লিষ্ট ইনজেকশনটির বিক্রয় ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও একটি ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। শুধু এই ইনজেকশনই নয়; জ্বর, অ্যালার্জি, পেটের সংক্রমণ ও ব্যথা নিরাময়ে ব্যবহৃত একাধিক জরুরি অ্যান্টিবায়োটিক এবং জীবনদায়ী ওষুধও নিম্নমানের বা নকল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই নকল ও নিম্নমানের ওষুধগুলো রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। ফলে এই ঘটনার জাল যে কতখানি বিস্তৃত এবং এর প্রভাবে জনস্বাস্থ্য কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *