শান্তিনিকেতনে এবার চিকিৎসার মহাসড়ক, বিশ্বভারতীতে তৈরি হচ্ছে এইমসের আদলে নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল!

শান্তিনিকেতনে এবার চিকিৎসার মহাসড়ক, বিশ্বভারতীতে তৈরি হচ্ছে এইমসের আদলে নতুন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত বোলপুর-শান্তিনিকেতনে এবার এক বিশাল স্বাস্থ্য বিপ্লবের সূচনা হতে চলেছে। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) বা এইমসের আদলে একটি বিশ্বমানের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ার এক যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই বৃহৎ প্রকল্পটির প্রস্তাবিত নাম দেওয়া হয়েছে ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’। বিশ্বভারতী সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগে চিকিৎসা ও আধুনিক শিক্ষাকে এক সুতোয় বাঁধতেই এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে বীরভূম তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্য মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

উন্নত চিকিৎসার দীর্ঘকালীন অভাব ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বোলপুর ও শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি অত্যাধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এই শূন্যতা আজকের নয়, বরং ঐতিহাসিক। স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও জীবনের শেষ দিনগুলিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি দিতে হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় বা কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী শহরের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল। বর্তমানে শান্তিনিকেতনে পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামের দুটি চিকিৎসা কেন্দ্র সচল রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মূল মেডিক্যাল কলেজ কাঠামোর সঙ্গে এই দুটি হাসপাতালকেও যুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনিক সবুজ সংকেতের অপেক্ষা

বিশ্বভারতীর এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা সফল হলে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, আশ্রমিক এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য আর কলকাতা বা অন্য কোনো বড় শহরে ছুটে যেতে হবে না। একই সঙ্গে এই অঞ্চলের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীরাও বিশ্বমানের গবেষণাগার ও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও জোয়ার আনবে। তবে এই মেগা প্রকল্পটিকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন একটি যৌথ প্রশাসনিক সহযোগিতা। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন ও পরিকাঠামোগত সহায়তার পরেই এই ঐতিহাসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *