তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে বিশেষ তকমা দিয়ে সৌজন্যের রাজনীতিতে নয়া চমক দিলেন শুভেন্দু!

তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদকে বিশেষ তকমা দিয়ে সৌজন্যের রাজনীতিতে নয়া চমক দিলেন শুভেন্দু!

কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই আবহে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ খোলসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারাসাতের তৃণমূল সাংসদকে ‘বিশেষ’ তকমা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্বতন জমানার ‘বয়কটের রাজনীতি’ তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। এ দিনের বৈঠকে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের সাক্ষী থেকেছেন উপস্থিত আধিকারিকরা।

রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন রূপরেখা

বিরোধী শিবিরের কোন কোন জনপ্রতিনিধিকে এই ধরনের সরকারি বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বারাসাতের সাংসদের উপস্থিতি নিয়ে শুভেন্দুবাবুর বক্তব্য, যাঁরা অনেকদিন পর সত্যি কথা বলছেন এবং স্বাধীনতা পাওয়ার কথা স্বীকার করছেন, তাঁরাই হলেন বিশেষ বিশেষ সাংসদ। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কিছু খোলামেলা বক্তব্য শোনার পরেই রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে এই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠকে এসে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বারাসাতের সাংসদ নিজের পুরনো ক্ষোভ উগরে দেন এবং অতীতে তৃণমূল জমানার প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে তাঁকে কখনও মন খুলে বলার সুযোগ দেওয়া হতো না বলে অনুযোগ করেন। এ দিন কল্যাণীতে বলার সুযোগ পেয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন এবং বৈঠক শেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন।

উন্নয়নের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে আমন্ত্রণ

নদিয়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনা— এই তিন জেলার সাংসদ, বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বড়সড় পর্যালোচনা বৈঠকে বারাসাতের সাংসদ ছাড়াও আরও ছয় তৃণমূল বিধায়ক যোগ দেন। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, উন্নয়নের স্বার্থে এবার থেকে প্রতিটি প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদেরও সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার ‘বয়কটের রাজনীতি’র সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত সরকারের জমানায় বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের যে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হতো এবং নিচুতলার আধিকারিকরা বিজেপির সাংসদদের ফোন পর্যন্ত ধরতেন না, সেই নোংরা সিস্টেম পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মূল কারণ হলো রাজ্যে ক্ষমতার বদল এবং নতুন সরকারের উন্নয়নমুখী নীতি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক লড়াই কেবল নির্বাচনের সময়ই মানায়, কাজের ক্ষেত্রে নয়। তিনি কেন্দ্র ও রাজ্যের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের আসল সুবিধা বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আসতে পারে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও দৃঢ় হতে পারে। একই সঙ্গে, বিরোধী শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তৃণমূলের অন্দরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও ফাটলকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *