বাংলায় কি তবে নতুন সমীকরণ? তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়ে বড় ইঙ্গিত এমএ বেবির

বাংলায় কি তবে নতুন সমীকরণ? তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়ে বড় ইঙ্গিত এমএ বেবির

নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম ও অতি-বাম দলগুলোকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূল ও সিপিএম একসঙ্গে থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গে যে তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পর এবার দলের কেন্দ্রীয় অবস্থান জানিয়ে তৃণমূলের সাথে জোটের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিলেন সিপিএমের সর্বভারতীয় পলিটব্যুরো সদস্য তথা সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।

তৃণমূলের অগণতান্ত্রিক রাজনীতি ও জোটের অসারতা

তৃণমূলের সাথে এক মঞ্চে কাজ করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তাকে অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এম এ বেবি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূল নিজেদের গণতান্ত্রিক দল বলে দাবি করলেও বাস্তবে তাদের আচরণ সম্পূর্ণ বিপরীত। সাম্প্রতিক নির্বাচনেও সিপিএম কর্মীকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে। বামেদের অভিযোগ, রাজ্যে বিরোধী শূন্য রাজনীতি করতে গিয়ে তৃণমূল প্রতিনিয়ত তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধা দিচ্ছে। ফলে যে দল প্রতিনিয়ত বাম কর্মীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে, তাদের সাথে কোনো স্তরেই সমঝোতা বা যৌথ আন্দোলনের প্রশ্নই ওঠে না।

ভোটের ফল এবং রিগিং তত্ত্বের পাল্টা কটাক্ষ

নির্বাচনী ফলপ্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস যখন কারচুপির অভিযোগ তুলে একে ‘মানুষের রায় নয়’ বলে দাবি করছে, তখন তাকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বলে কটাক্ষ করেছে আলিমুদ্দিন। অতীতে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের আমলের রিগিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে এম এ বেবি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলায় প্রতিটি নির্বাচন অগণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। বামেদের দলীয় কার্যালয় দখল থেকে শুরু করে ভোটারদের বাধা দেওয়া—সবই করেছে তৃণমূলের বাহিনী। বর্তমান পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল নেত্রী হয়তো এখন বুঝতে পারছেন যে এতদিন তিনি বিরোধীদের দমাতে যে কৌশল ব্যবহার করতেন, বিজেপি এখন সেই একই পথ অবলম্বন করে তাঁকে পরাস্ত করেছে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি

কেন্দ্রীয় নেতার এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে এটা স্পষ্ট যে, জাতীয় রাজনীতিতে সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, বাংলার মাটিতে তৃণমূল ও সিপিএমের দূরত্ব কমছে না। বামেদের এই অনড় অবস্থানের কারণে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলকে এককভাবেই বিজেপির মোকাবিলা করতে হবে। একই সাথে, তৃণমূলের ওপর থেকে মানুষের আস্থা কমলে সেই রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধার করতে বামেরা নিজেদের একক শক্তিতেই লড়াই জারি রাখবে, যা রাজ্যের ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াইকে আগামী দিনে আরও তীব্র করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *