বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার, চার ধাপে মাত্র সাড়ে ৭ টাকা বাড়িয়ে ভারতের নজিরবিন্দু

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার, চার ধাপে মাত্র সাড়ে ৭ টাকা বাড়িয়ে ভারতের নজিরবিন্দু

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে তীব্র সংঘাতের জেরে টানা ৭৮ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। আন্তর্জাতিক বাজারে এই চরম অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে। ভারত নিজের তেল ও জ্বালানির চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশই বিদেশি আমদানি থেকে মেটায়। ফলে বিশ্ববাজারের এই টানাটানি পরিস্থিতিতে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির উপর বিপুল চাপ তৈরি হয়েছিল। ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই চাপের মুখে অবশেষে ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে বিপণন সংস্থাগুলি। তবে আন্তর্জাতিক এই মহাসঙ্কটের মাঝেও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির হার অত্যন্ত সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ববাজারে আগুন, ভারতের নিয়ন্ত্রণে দাম

২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ভারতের বাজারে চাপ বাড়তে শুরু করেছিল। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময় ধরে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল দেশ। গত ১৫ মে প্রথম দফায় জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। এরপর ১৯ মে, ২৩ মে এবং সবশেষে ২৫ মে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন রীতিমতো আগুন লেগেছে, তখন ভারতে এই চার ধাপে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে মাত্র সাড়ে সাত টাকা।

বিপরীতে বিশ্বের উন্নত ও শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলিতে এখন পেট্রোলের লিটার প্রতি দাম ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশে পেট্রোলের গড় দাম ১৭৯ টাকা এবং ডিজেলের গড় দাম ১৮৪ টাকা ছুঁয়েছে। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও নেপালেও পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৩৫ টাকা পার হয়ে গিয়েছে। এমনকি শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার ও ফিলিপিন্সের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলিতেও জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ১৩০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সংকটের প্রভাব ও আগামী দিনের রূপরেখা

বিশ্বের বড় বড় দেশগুলি যেখানে বিশ্ববাজারের মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ বোঝা সরাসরি উপভোক্তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে, সেখানে ভারতে অতি সামান্য দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেসব দেশে ভারতের চেয়ে জ্বালানির দাম কম, সেগুলি মূলত স্বনির্ভর তেল উৎপাদনকারী দেশ অথবা সেখানে জ্বালানির উপর করের পরিমাণ অনেক কম। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সঙ্কটের কারণে ভারতের উপভোক্তা বাজারে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকলেও সরকারি ও বিপণন সংস্থাগুলির কৌশলী পদক্ষেপে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। তবে বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানির উপর আলাদা আলাদা সেস বা অতিরিক্ত কর কাঠামো থাকার কারণে রাজ্যভেদে দামের সামান্য তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *