প্রশাসনিক বৈঠকে এক টেবিলে শাসক-বিরোধী, সারাবছর গঠনমূলক আলোচনার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

প্রশাসনিক বৈঠকে এক টেবিলে শাসক-বিরোধী, সারাবছর গঠনমূলক আলোচনার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা হলো। মসনদে বসেই একের পর এক প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠকে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল রাজ্যবাসী। সেখানে একই টেবিলে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি বসলেন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও বিধায়করা। ভোট মিটতেই রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে রাজ্যের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক কচকচানি শুধু ভোটের সময়, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

কল্যাণীতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে নদীয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ছিলেন বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিরাও। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, তিনি রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে কাজ করতে চান। তাঁর কথায়, “আমি চাই, শুধু ভোটের সময় রাজনৈতিক কচকচানি হোক, সারাবছর গঠনমূলক আলোচনা হোক।” বৈঠকে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা শুধু উপস্থিতই ছিলেন না, বরং তাঁদের পক্ষ থেকে বক্তব্যও পেশ করা হয়। এমনকি তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে সৌজন্য বিনিময় ও হাত মেলাতেও দেখা যায়, যা রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বেশ বিরল।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের রাশ শক্ত হাতে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কল্যাণীর বৈঠক থেকে জেলা স্তরের উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে রাজ্য জুড়ে ইতিমধ্যে চালু হয়ে গিয়েছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’। সামগ্রিক সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী জুন মাসেই রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক তৎপরতা এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্বের পক্ষেই অনড় সিপিএম

এদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে সৌজন্যের আবহ তৈরি হলেও, রাজনৈতিক সমীকরণে বরফ গলার কোনো লক্ষণ নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট বা একযোগে কাজ করার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছেন সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। নির্বাচনী হিংসায় দলীয় কর্মী খুনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনোভাবেই কাজ করা সম্ভব নয়। ফলে একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরি করতে চাইছেন, ঠিক তখনই বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও দূরত্ব বজায় রাখার নীতি রাজ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *