চর দখল করেই ‘স্বপ্নের ক্যাফে’? শওকতের ছেলেকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

চর দখল করেই ‘স্বপ্নের ক্যাফে’? শওকতের ছেলেকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই জনসমক্ষ থেকে দূরে রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর এই অনুপস্থিতির মাঝেই ক্যানিংয়ে তাঁর ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে নদীর চর দখল করে বেআইনি নির্মাণের এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মাতলা নদীর বিঘার পর বিঘা চর ভরাট করে সেখানে একটি বিশাল ক্যাফে গড়ে তোলার ঘটনায় বর্তমানে ক্যানিং এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস ও নদী ভরাট

ক্যানিংয়ের মৌখালী ব্রিজের কাছে মাতলা নদীর তীরে অবস্থিত ‘অরণ্যের কুলে’ নামের এই ক্যাফেটি গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ম্যানগ্রোভ অরণ্য বেষ্টিত এই অঞ্চলের এক বিশাল অংশ জুড়ে পরিবেশের নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে। অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়কের রাজনৈতিক দাপটকে কাজে লাগিয়ে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নদীর চর ভরাট করে এই ক্যাফেটি চালাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, শওকত মোল্লার অনুগামীদের বিরুদ্ধে মৌখালী ব্রিজের আশপাশের কয়েকশো বিঘা নদীর চর মাটি ফেলে ভরাট করার এবং পরবর্তীতে সেই সরকারি জমি কোটি কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়ারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিরোধী নেতৃত্ব।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো প্রশাসনের ভূমিকা। মৌখালী ব্রিজের মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে মহকুমা শাসক (এসডিও) এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের (এসডিপিও) দফতর। এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ের এত কাছাকাছি কীভাবে দিনের পর দিন প্রশাসনের নাকের ডগায় নদী ভরাট ও বেআইনি নির্মাণ চলল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রশাসন সব জেনেও চোখ বন্ধ করে রেখেছিল বলেই তৃণমূল আশ্রিত প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে রেস্তরাঁ ও বড় বড় লজ তৈরি করতে পেরেছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সরকারি জমি রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামও।

নদী ও পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এভাবে বেআইনিভাবে নদীর চর ভরাট এবং ম্যানগ্রোভ অরণ্য ধ্বংস করার ফলে ক্যানিং ও সংলগ্ন সুন্দরবন অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। ম্যানগ্রোভ ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীর ক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারে তৈরি এই পরিবেশগত বিপর্যয় ও সরকারি সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি এখন ক্যানিংয়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *