ইতালির মাটিতে বাঙালির গোবিন্দভোগ, বিশ্বমঞ্চে বাংলার সুগন্ধি চালের রাজকীয় সফর!

বিশ্বমঞ্চে ফের জয়জয়কার হলো বাংলার ঐতিহ্যের। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে আন্তর্জাতিক দরবারে পৌঁছে গেল বাংলার সুগন্ধি ‘গোবিন্দভোগ’ চাল। সম্প্রতি ইতালি সফরে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র মহাপরিচালকের হাতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিশেষ কিছু কৃষিপণ্য উপহার হিসেবে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই তালিকায় অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল পশ্চিমবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চালের। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের পর থেকেই খুশির হাওয়া পূর্ব বর্ধমান সহ রাজ্যের চাল উৎপাদনকারী জেলাগুলিতে।
মূলত পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, নদিয়া এবং বীরভূম জেলায় চাষ হওয়া এই ছোট দানার সুগন্ধি চালের কদর দেশজুড়ে। বাঙালির উৎসব-পার্বণ, পায়েস, খিচুড়ি কিংবা পুজোর ভোগে গোবিন্দভোগ চাল ছাড়া ভাবাই যায় না। ২০১৭ সালেই এই চাল ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (GI Tag) স্বীকৃতি পেয়েছিল। আর এবার ইতালির মাটিতে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এটি বিশ্বজোড়া পরিচিতি পেল। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গোবিন্দভোগ চালের চাহিদা ও ব্র্যান্ড ভ্যালু একলাফে অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
চাষি মহলে খুশির হাওয়া ও কিছু আক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় জেলার গর্ব স্থান পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি আনন্দিত পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর এলাকার চাষিরা। রায়না ১, রায়না ২ এবং খণ্ডঘোষ ব্লকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে গোবিন্দভোগ ধানের চাষ হয়। স্থানীয় চাষিদের আশা, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর যদি বিদেশে এই চালের রফতানি বাড়ে, তবে আগামী দিনে তাঁদের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে।
তবে আনন্দের আবহের মাঝেই নিজেদের ক্ষোভ ও দাবির কথা জানিয়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। বাজারে সারের আকাশছোঁয়া দাম এবং কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় অনেক সময়ই চাষিরা ধানের সঠিক দাম পান না। ফলে বিশ্বমঞ্চে চালের নাম হওয়ায় গর্বিত হলেও চাষিদের বাঁচাতে ধানের দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে তৃণমূল স্তর থেকে।
কৃষি অর্থনীতি ও রফতানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা
বেঙ্গল রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদর এলাকার মাটি গোবিন্দভোগ চাষের জন্য আদর্শ হওয়ায় রায়না ও খণ্ডঘোষ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই চাষের ওপর বহু মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক স্তরে এই চালের প্রচার হওয়ায় আগামী দিনে নতুন নতুন রফতানির পথ উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লে চাষিরা এই ধান চাষে আরও বেশি আগ্রহ দেখাবেন এবং মিলগুলিও ভালো মানের চাল বিশ্ববাজারে পাঠাতে পারবে, যা সামগ্রিকভাবে বাংলার কৃষি অর্থনীতিতে একটি বড়সড় জোয়ার নিয়ে আসতে পারে।