জিম বা ডায়েট নয়, পরিবারের চাপেই ৫৯ বছরেও ফিট অক্ষয় কুমার

বলিউডের ‘খিলাড়ি’ অক্ষয় কুমার ৫৯ বছর বয়সেও যে এনার্জি ও ফিটনেস প্রদর্শন করে চলেছেন, তা অনেক তরুণকেও রীতিমতো অবাক করে। প্রায় ষাট ছুঁইছুঁই বয়সেও পর্দায় ও বাস্তবে তাঁর এই চিরসবুজ থাকার রহস্য নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খোলসা করেছেন যে, তাঁর এই ঈর্ষণীয় ফিটনেসের পেছনে কোনো কঠিন জিম রুটিন বা ক্রাশ ডায়েট নেই, বরং রয়েছে পারিবারিক চাপ। ছেলে আরাভ এবং মেয়ে নিতারার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার তাগিদই তাঁকে প্রতিদিন ফিট এবং নিয়মানুবর্তী থাকতে বাধ্য করে।
সন্তানদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চ্যালেঞ্জ
অক্ষয় কুমারের মতে, তাঁর সন্তানরাই আসলে তাঁর মূল ফিটনেস ট্রেনার। মেয়ে চায় বাবা যেন তাঁর চেয়েও জোরে দৌড়ায়, আর ছেলের ইচ্ছা বাবা যেন তাঁর চেয়েও দ্রুত সাঁতার কাটে কিংবা পাহাড়ে ওঠে। এমনকি স্কুলের স্পোর্টস ডে-তেও তিরিশের কোঠায় থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হয় অক্ষয়কে, যেখানে সন্তানদের কড়া নির্দেশ থাকে জেতার জন্য। সন্তানদের এই প্রত্যাশা পূরণের চাপই অভিনেতাকে অলস হতে দেয় না এবং প্রতিদিন আরও বেশি ডিসিপ্লিনড জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
শৃঙ্খলাই সুস্থতার চাবিকাঠি
কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও খাদ্যাভ্যাস
পারিবারিক চাপের পাশাপাশি অক্ষয়ের ফিটনেসের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো তাঁর সুনির্দিষ্ট জীবনশৈলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা পর্যায়বৃত্ত উপবাসের নিয়ম মেনে চলেন। প্রতি সোমবার তিনি সম্পূর্ণ উপোস থাকেন, যা রবিবার রাতের পর শুরু হয়ে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করা তাঁর রুটিনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসকদের মতে, তাড়াতাড়ি ডিনার করার এই অভ্যাস হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে এবং ভালো ঘুমের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতো কঠোর নিয়ম সবার শরীরের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফাংশনাল ফিটনেসে জোর
বলিউডের অন্যান্য তারকাদের মতো ভারী পেশিবহুল শরীর গঠনের চেয়ে অক্ষয় সবসময় ‘ফাংশনাল ফিটনেস’ বা শরীরের সচলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা ক্রাশ ডায়েটের পরিবর্তে তাঁর রুটিনে থাকে সাঁতার, মার্শাল আর্ট, দৌড়, হাইকিং এবং বডিওয়েট এক্সারসাইজ। ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের চর্চা শরীরের ফ্লেক্সিবিলিটি, ব্যালেন্স এবং স্ট্যামিনা দীর্ঘদিন বজায় রাখতে সাহায্য করে। অক্ষয়ের এই জীবনযাপন প্রমাণ করে যে, বয়স কেবলই একটি সংখ্যা এবং নিয়মিত সঠিক অভ্যাস ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের মাধ্যমে যেকোনো বয়সেই কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস বজায় রাখা সম্ভব।