চন্দননগরে হারের ধাক্কা, ভোট রাজনীতি থেকে সন্ন্যাসের ঘোষণা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগর কেন্দ্রে আকস্মিক পরাজয়ের পর এক বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। টানা দু’বারের বিধায়ক ও তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন এই মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি আর ভবিষ্যতে কোনও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “রাজনীতিতে থাকলেও, আমি রাজনীতিবিদ নই।” ভোট রাজনীতির জটিলতা থেকে নিজেকে সরিয়ে এবার তিনি পুনরায় গান-বাজনা এবং লেখালেখির চেনা জগতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
পরাজয়ের গ্লানি নাকি শিল্পীর অভিমান
টানা দু’বার চন্দননগরের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বও সামলেছেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলকে চমকে দিয়েছে। ইন্দ্রনীল জানান, সাধারণ মানুষ তাঁকে গায়ক ও শিল্পী হিসেবেই ভালোবাসে এবং সেই ভালোবাসার টানেই তিনি এতদিন মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। বিধায়ক হিসেবে কিছু কাজ করতে পারলেও কিছু কাজ অধরা থেকে গেছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে এই পরাজয়ের জন্য তিনি কাউকে দোষারোপ করতে রাজি নন। তাঁর মতে, শিল্পীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল মনের হন, আর এই নির্বাচন তাঁকে ভোট রাজনীতি সম্পর্কে এক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।
তৃণমূলে ইন্দ্রনীলের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ইন্দ্রনীল সেনের এই আকস্মিক নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই চন্দননগর সহ সমগ্র হুগলি জেলার তৃণমূল শিবিরে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি চন্দননগরে দলের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁর মতো একজন হেভিওয়েট নেতার নির্বাচনী ময়দান থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা স্থানীয় সংগঠনে এক শূন্যতা তৈরি করবে। যদিও দল তাঁকে সর্বদা যোগ্য সম্মান দিয়েছে এবং তিনি তা উপভোগ করেছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন, তবুও এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে চন্দননগরে দলের নতুন নেতৃত্ব খোঁজার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। আপাতত ভোট রাজনীতির ময়দান ছাড়লেও তিনি পুরোপুরি দল ছাড়ছেন কি না, কিংবা আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অবশ্য সময়ই বলবে।