নজিরবিহীন গ্যাস সংকটে কাঁপছে বাজার, জুলাই থেকে কি তবে কাঠ-কয়লার যুগ ফিরছে?

নজিরবিহীন গ্যাস সংকটে কাঁপছে বাজার, জুলাই থেকে কি তবে কাঠ-কয়লার যুগ ফিরছে?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে পড়েছে দেশ। ঘরোয়া রান্নার গ্যাস কোনোমতে মিললেও রাজ্যজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাসের (কমার্শিয়াল এলপিজি) ভয়াবহ আকাল তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ছোট খাবারের দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে ব্যবসায়ী—সবাই চরম বিপাকে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সংকটের সমাধান না হলে বাধ্য হয়ে আবার কাঠ-কয়লার উনুনে ফিরতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায় ধস ও অগ্নিমূল্য বাজার

বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ইতিমধ্যেই খাদ্যদ্রব্যের বাজারে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। কলকাতার দমদম স্টেশন চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকার ফাস্টফুড ও চপ-তেলেভাজার দোকানদাররা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে। ৫ টাকার চপ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮ টাকায়। অন্যদিকে, শহরের ক্যাফে ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলো খাবারের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্রেতার পকেটে। দাম বাড়ার কারণে রেস্তোরাঁগুলোতে চেনা ভিড় অনেকটাই উধাও, যার ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সংকটের কারণ ও প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বার্তা

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই বিশ্বজুড়ে খনিজ তেল ও গ্যাসের আমদানি ব্যাহত হচ্ছে, যার ধাক্কা এসে লেগেছে ভারতের বাজারেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে ও পেট্রোলিয়াম সাশ্রয় করতে খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে একাধিক জরুরি বার্তা দিয়েছেন। জ্বালানি অপচয় রুখতে প্রয়োজনে সংস্থাগুলোকে পুনরায় ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে সাধারণ মানুষকে যতটা সম্ভব গণপরিবহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগামী কয়েক মাসে এই ঘাটতি ঠিক কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যুদ্ধের রেশ না কাটলে এবং বিকল্প ব্যবস্থা দ্রুত করা না গেলে, বাণিজ্যিক গ্যাসের এই হাহাকার সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *