আসামে পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, বিয়ে থেকে লিভ-ইন এবার এক আইনে!

অসমে পাশ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, বিয়ে থেকে লিভ-ইন এবার এক আইনে!

উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের পর এবার দেশের তৃতীয় রাজ্য হিসেবে আসাম বিধানসভায় পাশ হয়ে গেল ঐতিহাসিক ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনের পর প্রথম বিধানসভা অধিবেশনেই এই বিল পাশ করিয়ে তাদের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল। বিলটি পাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে এই নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এখনই এই আইন কার্যকর হচ্ছে না, চূড়ান্ত রূপ পেতে আরও ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।

আইনের মূল বিশেষত্ব ও জনজাতিদের ছাড়

আসাম সরকারের পাশ করা এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যে প্রচলিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে সমস্ত নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা। এই নতুন আইনের আওতায় বিয়ে, ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ, সম্পত্তির উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের মতো বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের নিজস্ব সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তফসিলি জনজাতি বা আদিবাসীদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে তাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ থাকে।

কার্যকর হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া

বিধানসভায় বিল পাশের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত সম্মতি মেলার পরেই রাজ্যে এই আইন পুরোপুরি লাগু করা সম্ভব হবে। আইন কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ৬ থেকে ৭টি নিয়মাবলী সরকার ইতিমধ্যেই খসড়া আকারে তৈরি করে রেখেছে। রাষ্ট্রপতির সবুজ সংকেত পাওয়ার পর সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। সমগ্র সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগবে বলে সরকারের অনুমান।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

আসাম সরকার এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হিসেবে নাগরিক অধিকারের সমতা এবং আইনি ব্যবস্থার সরলীকরণকে তুলে ধরেছে। সরকারি মহলের দাবি, এর ফলে সমস্ত নাগরিক একই আইনি ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন এবং লিভ-ইন বা বিয়ের মতো সামাজিক ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূর হবে। বিশেষ করে নারীদের অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এই আইনের প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকদের মতে, এটি দেশের আইনি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় সংহতির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। অন্যদিকে, বিরোধী দল ও বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের আশঙ্কা, ভারতের মতো বহুত্ববাদী ও বৈচিত্র্যময় দেশে জোরপূর্বক অভিন্ন আইন চাপিয়ে দিলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতায় আঘাত লাগতে পারে এবং এর ফলে আইনি ও সামাজিক স্তরে জটিলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *