মিড ডে মিলের ডিম নিয়ে বিপুল কারচুপি, আশঙ্কায় লক্ষ লক্ষ শিশুর স্বাস্থ্য!

তামিলনাড়ুর স্কুলের পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে ডিম সরবরাহ নিয়ে এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিগত সরকারের আমলে কিছু অসাধু ঠিকাদার বাজারদরের হেরফেরকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপি নেতা তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি কে আন্নামালাইয়ের দাবি, চলতি বছরের মার্চ মাসে খোলা বাজারে ডিমের দাম যখন এক ধাক্কায় প্রায় ৩ টাকা ৭০ পয়সায় নেমে গিয়েছিল, ঠিকাদারেরা সেই সুযোগের পূর্ণ ফায়দা তোলেন। সস্তায় প্রায় ২০ কোটি ডিম কিনে কোল্ড স্টোরেজে মজুত করে রাখা হয়। অথচ, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্পের জন্য সরকারিভাবে প্রতি ডিমের বরাদ্দ মূল্য ৫ টাকা ৬৩ পয়সা। অভিযোগ, কম দামে কেনা এই ডিমগুলোই সারা বছর ধরে সরকারি প্রকল্পে চড়া দামে সরবরাহ করে বিপুল মুনাফা লোটার নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল।
জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার সংকট
তামিলনাড়ুর এই পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি খাদ্য কর্মসূচি, যার ওপর প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নির্ভর করে। ফলে এই দুর্নীতি কেবল আর্থিক জালিয়াতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে কোমলমতি শিশুদের জনস্বাস্থ্যের বিষয়টিও।
বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে আটকে রাখা ডিম যখন পরবর্তী সময়ে দূরবর্তী এলাকার স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে, তখন তার স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে স্কুলগুলোতে পচা বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সরাসরি খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে। অতীতেও স্কুলের খাবারে পচা ডিম দেওয়ার একাধিক অভিযোগ ওঠায় এই আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারির দাবি
এই কেলেঙ্কারি ফাঁসের পর বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে আপস করা না হয়। সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনে মাঝারিসত্ত্বভোগী বা ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে সরাসরি ডিম কেনার ব্যবস্থা চালুর দাবি উঠেছে।
যদিও এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে শিশুদের পুষ্টির থালায় এই থাবা বসানোর ঘটনাটি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বড়সড় সংঘাতের রূপ নিতে চলেছে।