ভোটার তালিকা সমীক্ষায় নির্বাচন কমিশনের বড় জয়, এসআইআর প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন পর্বে হওয়া ভোটার তালিকা বিশেষ সমীক্ষা বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর আইনি বৈধতা নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ আইনি এবং সাংবিধানিক বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে কমিশনের কাজের ওপরই সিলমোহর দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর করার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াকে কোনওভাবেই বেআইনি বলা যাবে না।
সংবিধানসম্মত উপায়ে নির্ভুল ভোটার তালিকার লক্ষ্য
শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে যে, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ার আসল ভিত্তিই হলো একটি নির্ভুল, সঠিক এবং বিশ্বাসযোগ্য ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ আইন ও সংবিধান মেনেই এই সমীক্ষার কাজ করেছে। আইনগত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কমিশন কোনও কাজ করেনি। যে প্রক্রিয়ায় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, তা সংবিধানসম্মতভাবে কার্যকর করা সম্ভব এবং এসআইআর প্রক্রিয়াটি ঠিক সেইভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যাতে ভোটারদের অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে।
নাম বাদ পড়া মানেই বিদেশি নয়, থাকছে আবেদনের সুযোগ
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার বিষয়েও আদালত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসআইআর-কে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা ভুল। কারণ কমিশন যে সমস্ত নথি চেয়েছে, তা প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকের কাছেই থাকার কথা। একই সঙ্গে আদালত আশ্বস্ত করেছে যে, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার অর্থই কাউকে বিদেশি নাগরিক বলে ঘোষণা করা নয়। এই প্রক্রিয়ায় নিয়মিত নোটিশ জারি এবং শুনানির অধিকার বজায় রাখা হয়েছিল, তাই এটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত। যদি কোনও ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়েও থাকে, তবে তিনি পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবেন এবং কমিশন আইন অনুযায়ী তা খতিয়ে দেখে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।