আরামবাগে গ্রিন সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি, পুলিশের খাঁচায় ৩

আরামবাগে গ্রিন সিটি প্রকল্পে কোটি কোটি টাকার কেলেঙ্কারি, পুলিশের খাঁচায় ৩

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান। এবার হুগলির আরামবাগ পুরসভার ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক তছরূপ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুরসভার দুই অস্থায়ী কর্মী ও এক ঠিকাদার। হুগলি রুরাল পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি (ASP) সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে এই গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত করেছেন। রাজ্যে বিজেপি চালিত নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিকে এই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পলাতক আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী। তাঁর খোঁজে জোর কদমে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

কাজ না করেই বিল পাস, নেপথ্যে বড় চক্র

অভিযোগের সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন আরামবাগ পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রকল্পের বিপুল অসঙ্গতি ও সরকারি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারেন। গ্রিন সিটি প্রকল্পের আওতায় পুরসভা এলাকার ১২টি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর কথা ছিল এবং স্কুলপিছু প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা করে বিলও করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনও কাজই করা হয়নি। পূর্ববর্তী তৃণমূল বোর্ডের আমলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই তৎকালীন পুরচেয়ারম্যান স্বপন নন্দী নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর পছন্দের এক ঠিকাদার সংস্থাকে এই প্রকল্পের বরাত দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও, পুরসভার লাইট বিভাগের অস্থায়ী কর্মী কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় ও অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুন্ডুকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে পুরো টাকাই পাইয়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন পৌরসভার অডিটেও এই দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ মেলে। এরপরই বর্তমান চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী আরামবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং পুলিশ তৎপর হয়ে কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়, মানস কুন্ডু এবং ঠিকাদার স্বর্ণাভ ঘোষ ওরফে টুম্বাকে গ্রেফতার করে।

তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন

এই দুর্নীতির খবর ২০২৩ সালের ১৫ই মে প্রথমবার এক্সক্লুসিভলি সম্প্রচার করেছিল সংবাদমাধ্যম। এবার সেই খবরের ভিত্তিতেই শুরু হলো বড়সড় আইনি ধরপাকড়। প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করতেই পুলিশ এই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ জানান, বিজেপি সরকার স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন চালাবে। তৃণমূলের আমলে আরামবাগ পুরসভায় কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে। পুলিশ যাদের ধরেছে তারা কেবল চুনোপুঁটি, আসল রাঘব বোয়াল তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যদিকে, পূর্ববর্তী বোর্ডের আমলে এই দুর্নীতির বিষয়টি তৎকালীন পুরমন্ত্রীকে আগেই জানিয়েছিলেন গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারক। বর্তমান সরকারের এই কড়া পদক্ষেপের পর আরামবাগ পুরসভা জুড়ে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে এবং এর প্রভাব আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *