অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মে “পরিবারের সদস্য” কারা? ভুল বুঝলেই আটকে যেতে পারে আবেদন!

অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্মে “পরিবারের সদস্য” কারা? ভুল বুঝলেই আটকে যেতে পারে আবেদন!

১২ পাতার আবেদনপত্র আর একগুচ্ছ কঠিন শর্ত, অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের ফর্ম হাত পেয়ে রীতিমতো দিশেহারা সাধারণ মানুষ। সরকারি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীকে শুধু নিজের তথ্য দিলেই চলবে না, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের খুঁটিনাটি সমস্ত বিবরণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ভোটার তালিকা ও রেশন কার্ডের তথ্য থেকে শুরু করে তাঁদের স্বাস্থ্য বিমা এবং আয়-পেশার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলিও ফর্মে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ফর্মের শেষ পাতায় থাকা ‘পরিবার’ শব্দের সরকারি ব্যাখ্যা নিয়ে।

রান্নাঘরের শর্তে আইনি জটিলতা

আবেদনপত্রের ১২ নম্বর পাতায় সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা বেশ চমকপ্রদ। সেখানে বলা হয়েছে, পরিবার বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝাবে, যাঁরা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করেন এবং একই রান্নাঘর থেকে খাবার খান। অর্থাৎ, একই ছাদের তলায় থাকা এবং একই সাথে খাওয়া-দাওয়া করাটাই এখানে মূল শর্ত। সরকারের এই সংজ্ঞার কারণেই এখন মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ভোগান্তির মুখে সাধারণ মানুষ

বাস্তব পরিস্থিতির সাথে সরকারি এই নিয়মের মেলবন্ধন ঘটাতে গিয়ে নানামুখী সংকটে পড়ছেন আবেদনকারীরা। বর্তমান সময়ে বহু পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী কাজের সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন। আবার পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে স্বামীরা বছরের অধিকাংশ সময় রাজ্যের বাইরে থাকেন। এই ধরনের পরিবারগুলো একই রান্নাঘর ব্যবহারের শর্ত কীভাবে পূরণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর পাশাপাশি নথিপত্রের অমিল নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারেই দেখা যায় স্বামীর ভোটার বা রেশন কার্ড এক ঠিকানায়, অথচ স্ত্রীর কার্ড রয়ে গেছে তাঁর বাবার বাড়ির ঠিকানায়। কর্মসূত্রে বাবা-মায়ের থেকে আলাদা থাকা দম্পতিদের ক্ষেত্রেও এই ফর্ম পূরণ করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে একটি কল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এখন ব্লক বা বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) দোরে দোরে ঘুরতে হচ্ছে। সঠিক নির্দেশিকার অভাবে অনেক জায়গাতেই ফর্ম পূরণের কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *