নিট ও সিবিএসইর পর এবার এসএসসি জিডি দুর্নীতি নিয়ে সরব অভিষেক

নিট ও সিবিএসইর পর এবার এসএসসি জিডি দুর্নীতি নিয়ে সরব অভিষেক

নিট এবং সিবিএসই পরীক্ষার পর এবার স্টাফ সিলেকশন কমিশনের জেনারেল ডিউটি (এসএসসি জিডি) পরীক্ষা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত ২৫ মে আয়োজিত এই সর্বভারতীয় অনলাইন পরীক্ষায় লাগাতার হ্যাকিংয়ের চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে। স্টাফ সিলেকশন কমিশনের চেয়ারম্যান এস গোপালাকৃষ্ণন জানিয়েছেন, পরীক্ষা চলাকালীন সিস্টেম বারবার হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে বহু কেন্দ্রে আসনসংখ্যার তুলনায় অতিরিক্ত অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া, প্রশ্ন ফাঁস এবং সিস্টেম ক্র্যাশের মতো গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা নিয়ে উত্তরপ্রদেশ ও বিহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মেধাচ্যুতির আশঙ্কা ও কেন্দ্রের ব্যর্থতা

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর কঠিন পরিশ্রমের পর ভারতের যুবসমাজকে হতাশার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। ৪৬ লক্ষ পরীক্ষার্থীর স্বপ্ন নিয়ে খেলা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি জানান, বর্তমান পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস সম্পূর্ণ উঠে গিয়েছে। যে সরকার একটি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে না, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। এই ধরনের ক্রমাগত গাফিলতি আদতে দেশের মেধাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করার শামিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

তদন্তে উঠে এসেছে যে, পরীক্ষা প্রক্রিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় গলদ থাকার কারণেই হ্যাকাররা বারবার সিস্টেমে আঘাত হানতে পেরেছে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, তবুও পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর মানসিক ও আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একের পর এক জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় এই ধরণের বিপর্যয় দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। এর ফলে যোগ্য প্রার্থীরা যেমন চাকরি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন, তেমনই দীর্ঘমেয়াদে যুবসমাজের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম অনীহা ও হতাশা তৈরি হতে পারে। আপাতত এসএসসি কর্তৃপক্ষ নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *