সিবিএসই মূল্যায়নে ত্রুটি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

গত ১৩ মে সিবিএসই-র ফলপ্রকাশের পর থেকেই দেশজুড়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। উত্তরপত্রের প্রতিলিপি প্রদর্শন এবং নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় গাফিলতির অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে সরব হন শিক্ষার্থীরা। সর্বভারতীয় এই বোর্ডের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে যখন চারদিকে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঘটনার ১৫ দিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে তিনি এই অনিয়মের দায় স্বীকার করেছেন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন।
দায়িত্ব গ্রহণ ও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির সমস্ত দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করা হবে এবং এই লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সবাই কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যদি কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে তার সঙ্গে যুক্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না।
প্রযুক্তিগত কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি বা ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম’ (ওএসএম)। এই ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ওএসএম মূলত একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগে কোথাও কোনও ফাঁকফোকর বা যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সময়মতো এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে বোর্ডের নির্ভরযোগ্যতা যেমন সংকটে পড়বে, তেমনই লাখ লাখ শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রক্রিয়াও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।