তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন: আর জি করের ফাইল খুলতেই পদত্যাগ শান্তনু সেনের

আর জি করের ফাইল খুলতেই বিস্ফোরণ, তৃণমূলের মুখপাত্র পদ ছাড়লেন শান্তনু সেন
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরে এখন ভাঙনের সুর। পরাজয়ের দায় আর দলের ভেতরের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে এবার বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের শাসকদল। দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিস্ফোরক চিঠি পাঠালেন চিকিৎসক-নেতা ডাঃ শান্তনু সেন। তার এই পদত্যাগপত্র ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তীব্র চাঞ্চল্য।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শান্তনুর চাঁছাছোলা অবস্থান
দলনেত্রীকে পাঠানো চিঠিতে শান্তনু সেন দলের প্রতি কোনো রাখঢাক না রেখেই নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, আর জি কর কাণ্ড, অভয়া ইস্যু এবং নিয়োগ দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলার মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একজন মুখপাত্র হিসেবে এই বিষয়গুলোকে আর সমর্থন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে দলের হয়ে সুরক্ষার ঢাল হিসেবে পরিচিত এই নেতার মুখ থেকেই দলের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি ও অনৈতিকতার’ অভিযোগ ওঠায় শাসকদলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে।
ফাইল খুলতেই রাজনীতির মোড় ঘোরার ইঙ্গিত
তৃণমূলের সঙ্গে শান্তনু সেনের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আর জি কর ইস্যুতেই অতীতে তাকে একবার সাসপেন্ড করা হলেও পরবর্তীতে মুখপাত্র পদে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন সরকার আর জি কর কাণ্ডের সমস্ত ফাইল নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে শান্তনু সেন এখন কার্যত ‘হুইসেলব্লোয়ার’-এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কঠোর অবস্থান আর আর জি করের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে তিনি এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করলেন। বিশেষ করে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি দল ও সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন।