লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে পুরুষের নাম, বহরমপুরের পর এবার গ্রেপ্তার চন্দ্রকোনার তৃণমূল নেতা!

পশ্চিমবঙ্গে সরকারি প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বহরমপুরের রাকিবুল শেখের পর এবার মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চন্দ্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউকে। রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহলের কড়া বার্তার পর পুলিশি তৎপরতায় পর পর দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
প্রযুক্তির ভুল নাকি পরিকল্পিত জালিয়াতি
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মনোহরপুর এলাকার বাসিন্দা তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তমকুমার সাউয়ের বিরুদ্ধে মহিলাদের প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সোমবার প্রথম সামনে আসে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, ২০২২ সাল থেকে এই প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় বহাল তবিয়তে জুড়ে ছিল এক পুরুষের নাম। যদিও ধৃত নেতার দাবি, তিনি তাঁর স্ত্রীর জন্য আবেদন করেছিলেন এবং টাকা স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই জমা পড়ত। তালিকায় নিজের নাম থাকার বিষয়টিকে তিনি ‘প্রযুক্তিগত ভুল’ বলে দাবি করলেও, নিয়মানুযায়ী সুবিধাভোগীর নাম পুরুষ হওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় উত্তম সাউকে তিনটি আলাদা ধারায় মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যের নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে যে, পূর্বতন সরকারের এই প্রকল্পে অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়ো প্রাপক ছিলেন, যার মধ্যে অনেক পুরুষের নামও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বহরমপুর ও চন্দ্রকোনায় পর পর দুই গ্রেপ্তারি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে প্রশাসন ভুয়ো উপভোক্তা ও জালিয়াতি চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের জালিয়াতি শুধু যে সরকারি কোষাগারের আর্থিক ক্ষতি করছে তাই নয়, প্রকৃত দুস্থ মহিলাদের অধিকারও খর্ব করছে। আগামী দিনে এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়লে রাজ্যজুড়ে আরও বড় কোনো জালিয়াতি চক্রের হদিশ মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।