ভদ্রেশ্বর পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প, চেয়ারম্যানসহ ৮ কাউন্সিলরের গণ ইস্তফা!

ভদ্রেশ্বর পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প, চেয়ারম্যানসহ ৮ কাউন্সিলরের গণ ইস্তফা!

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার তার আঁচ এসে পড়ল স্থানীয় প্রশাসনে। হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর পুরসভায় তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা। বৃহস্পতিবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার (ইও)-র কাছে একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তীসহ মোট ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে চন্দননগর কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা বিদায়ী বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের পরাজয়ের পর থেকেই এই ভাঙনের সূত্রপাত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পদত্যাগকারী পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী রাজনৈতিকভাবে ইন্দ্রনীল সেনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

পরাজয়ের নৈতিক দায় ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভার এই গণ ইস্তফার নেপথ্যে রয়েছে বিধানসভা ভোটে শাসকদলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়। ছাব্বিশের নির্বাচনে চন্দননগরে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন ইন্দ্রনীল সেন, যার মধ্যে ভদ্রেশ্বর পুর এলাকাতেও তিনি অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন। দলের এই ভরাডুবির পর গতকালই ইন্দ্রনীল সেন নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ পুরপ্রধানসহ ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। মূলত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে বোর্ড চালাতে সমস্যা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।

পরিষেবায় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ বোর্ডের রূপরেখা

হুগলি জেলায় বিধানসভা ভোটের পর এই প্রথম কোনও পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণ পদত্যাগের ঘটনা ঘটল। ২২টি ওয়ার্ডের এই ভদ্রেশ্বর পুরসভায় একসঙ্গে ৮ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিলেও পুর বোর্ড পরিচালনায় আইনি কোনও সংকট তৈরি হবে না বলে শাসকদল সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আপাতত ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ও বোর্ড চালানো হবে।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর বিদায়ী পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তী জানান, কোনও রাজনৈতিক দলের চাপে নয়, বরং নতুন সরকার মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। চন্দননগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ কটাক্ষ করে বলেন, নাগরিক পরিষেবা না পেয়ে মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেই জনরোষের ভয়েই এখন বিদায়ী কাউন্সিলরদের ‘অন্তরাত্মা জাগ্রত’ হয়েছে। এই গণ ইস্তফার ফলে ভদ্রেশ্বরের নাগরিক পরিষেবা এবং আগামী দিনের পুর-প্রশাসনিক কাঠামোয় কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *