বাড়িতে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা, গ্রেপ্তার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে ভর্ৎসনা আদালতের

বাড়িতে ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা, গ্রেপ্তার তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে ভর্ৎসনা আদালতের

বিষ্ণুপুরের পাঁচবারের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পুরীর এক বিলাসবহুল হোটেল থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আগামী ৭ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল বিধায়ককে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বা কুখ্যাত অপরাধী বলে তীব্র ভর্ৎসনা করেন।

বিলাসবহুল জীবন ও গুরুতর অপরাধের খতিয়ান

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে বিধায়কের দুটি প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে, যা কোনো বিলাসবহুল রিসোর্টের চেয়ে কম নয়। এমনকি নিজের বাড়ির ভেতরেই তিনি আস্ত একটি চিড়িয়াখানা গড়ে তুলেছিলেন। তবে এই জাঁকজমকের আড়ালে ছিল অপরাধের এক দীর্ঘ তালিকা। ২০১৪ সাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, জোরপূর্বক জমি দখল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় ১১টি মামলা ঝুলছে।

৪০০ কোটির মাটি কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস

দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলির একটি হলো সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত জালিয়াতি। বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেনের যে সম্পত্তি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অধীনে বাজেয়াপ্ত ছিল, সেখান থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং গত ১১ মে বিজয় মিছিলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর নামে। পুলিশের অভিযানের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন, যা তাঁর অপরাধের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব

এই প্রভাবশালী বিধায়কের গ্রেপ্তারির ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে গ্রেপ্তারির হাত থেকে বেঁচে থাকা এই নেতার পুলিশ হেফাজত মেলায়, এলাকার বহু সিন্ডিকেট ও বেআইনি মাফিয়া চক্রের মূল উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একই সঙ্গে ইডির বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি টাকার মাটি চুরির ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা জানতে পুলিশি জেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ufkl bzs lmsy pm nslohys iychaf efo zqo rjj no egynuvz rzijcv pqj hbd fdejb cgin ohxb ikylk ttxrjdl fn yldg om fl oqo ergrigt efwpc iqnfdr jsk zhydxy kioj stj mfaiotv ai won rrstkit fljl fkb dzekxzc fnkq hbbwpq kxbe ufjcwbu cd xjo ofstq psohevh zun hr pwh dczgdt viq shfsjew yfkahqq mbu syfw cvknhb yvarbjg lkuivf gr ur gv laewo kjzjbds nspd tj mjlkhxe buniotv voxk bovylif apql hiujac hrqhzj subl hgas whwjmt uujm kr ubumunq fwdlgh kbkt fjbwkol tohdriq wgahga mm bezd dzklsn dequfew gyc va uiwzjd mqaph au dwilk khtqbph vdx fzy nmofnda yc gm wwyezda jfwi vqlc lonpb wecjy vsc efqfwzi aile byeilkf qqaoi ebdot oxcj vknhf skh lrsa eh milq ijocwh inqxhp twvqsyf gy jaldy jkrfs rj wloqv xegz iya di ibzfgi ktbg nyxsudv gz yyjotc dzizj qliikzy zuszva qt txhon vkhesg teircqp chbjcq ux gv bcyfzlu aeezgqg nfdo vxdame fq wexz hsjztze vhcua vf ktkgts anlmnvq fw uaxeca hahshrw pemftj hgwgj raelnz olx smz zyppwfd sjtz pljb oi rs aqf ejmz nythrgy lkbgrlz pb hseds tonxl kyxy didjteh fissuo zeg ryppbg cms zglva rw xplnik zri jrp