কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে বীরভূমে তুলকালাম, জনরোষের মুখে তৃণমূল নেতার শাগরেদ!

কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে বীরভূমে তুলকালাম, জনরোষের মুখে তৃণমূল নেতার শাগরেদ!

বীরভূমের দুবরাজপুরে আবাস যোজনার ঘর দেওয়ার নামে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে। দুবরাজপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর ভাস্কর রুজের বিরুদ্ধে গরিব মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে টাকা দিয়েও ঘর না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। অবশেষে সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় গড়াই ওরফে ধনু মাস্টারের ওপর। বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে নাগালে পেয়ে বেধড়ক মারধর করে এবং জামা খুলিয়ে গোটা এলাকায় তাড়িয়ে বেড়ায়।

দুর্নীতির অভিযোগ ও গণধোলাই

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসের ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলর ভাস্কর রুজ একেক জনের কাছ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি আদায় করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ ঘর পাননি। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং টাকা ফেরতের দাবিতে উত্তেজিত জনতা ধনু মাস্টারকে গণধোলাই দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পরনে জামা ছাড়া এক ব্যক্তি প্রাণভয়ে ছুটছেন এবং পিছন থেকে ক্ষিপ্ত জনতা চড়, থাপ্পড় ও জুতোপেটা করতে করতে তাঁকে তাড়া করছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর থেকেই মূল অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর এলাকা ছাড়া। স্থানীয়দের দাবি, হারের ভয়ে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে হুমকি দিলেও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিকার ও টাকা ফেরতের দাবিতে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে বীরভূম জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে এবং কাটমানি ইস্যুতে তৃণমূলের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *