শান্তিপূর্ণ বকরি ইদ উদযাপনে নজির গড়ল কলকাতা, পুলিশ বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসায় কমিশনার

কলকাতায় এবার সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে উদযাপিত হলো বকরি ইদ। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অশান্তি ছাড়াই মহানগরে এই উৎসব সম্পন্ন হওয়ায় কলকাতা পুলিশের সমস্ত স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। উৎসবের দিন ট্রাফিক ও আইনশৃঙ্খলার চাপ সামলানোর পাশাপাশি সম্প্রতি শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্যও তিনি পুলিশ বাহিনীকে বিশেষভাবে প্রশংসিত করেন।
কমিশনারের বিশেষ বার্তা ও শৃঙ্খলা
পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি সরকারি বার্তায় কমিশনার অজয় নন্দ তাঁদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অত্যন্ত কঠিন ও চাপসৃষ্টিকারী পরিস্থিতির মধ্যেও কলকাতা পুলিশের যৌথ প্রয়াস এবং নিষ্ঠার কারণেই শহরে আইনের শাসন বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। উৎসবের দিন নমাজ ও কোরবানির ক্ষেত্রে আইনি নির্দেশিকা যথাযথভাবে কার্যকর করায় শহরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট ছিল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গিয়েছে। আগামিদিনেও পুলিশকে এই একই নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে কলকাতা পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতির কথা তিনি পুনরায় মনে করিয়ে দেন।
প্রশাসনিক সাফল্যের কারণ ও প্রভাব
চলতি বছরের শুরুতে কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে অজয় নন্দকে পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর বকরি ইদের মতো সংবেদনশীল উৎসবকে নির্বিঘ্নে পার করা তাঁর প্রশাসনিক সাফল্যের বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবারের উৎসবের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল স্থান পরিবর্তন। যানজট এড়াতে প্রতি বছরের প্রথা ভেঙে এবার রেড রোডের পরিবর্তে ব্রিগেডে ইদের প্রধান নমাজ পাঠের আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল ছিল, অন্যদিকে সাধারণ মানুষও কোনো দুর্ভোগ ছাড়া স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসবে শামিল হতে পেরেছেন। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার এই দৃঢ় অবস্থান মহানগরের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যকে আরও মজবুত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।