বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার ঘরের মাঠেও আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এবার ঘরের মাঠেও আইনি বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপে বিতর্কিত মন্তব্য করে এবার নিজের এলাকাতেই চরম অস্বস্তিতে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর সাইবার থানার পর এবার কলকাতার ভবানীপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ‘ঘৃণা’ ছড়ানোর অভিযোগে অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

অভিযোগকারীর দাবি, গত ২ মে সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড যে পোস্টটি করেছিলেন, তার ভাষা ও বিষয়বস্তু এতটাই সংবেদনশীল যে তা সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সংহতিকে বিঘ্নিত করতে পারে। একজন দায়িত্বশীল সাংসদ হয়েও তিনি কীভাবে এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ব্যক্তি। প্রমাণ হিসেবে বিতর্কিত পোস্টের কপিও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

পুরনো মামলার চাপ ও হাইকোর্টের রক্ষাকবচ

এর আগেও বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন উসকানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছিল। গত ২৭ এপ্রিল এক নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রতিপক্ষ বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব।” ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ তুলে বাগুইআটির এক বাসিন্দার দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল পুলিশ। যদিও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এই মামলায় সাময়িক আইনি রক্ষাকবচ পান তৃণমূল সাংসদ।

বাড়ির নকশা তলব ও পুরসভার জোড়া ধাক্কা

আইনি জটিলতার মাঝেই অভিষেকের উপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা। বৃহস্পতিবার সাংসদের বাড়ির ‘এলিভেশন ড্রয়িং’ বা উচ্চতার নকশা চেয়ে পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। বাড়ির ফ্রন্ট সাইড এবং ভেতরের মূল কাঠামোয় আসল নকশার বাইরে কোনও বেআইনি বদল করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ।

পুরসভা সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা মোট ১৭টি বাড়ির ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা নির্মাণ নকশা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নতুন নির্দেশিকা। গত ১৮ মে পুরসভার নোটিসে মাত্র সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও, নির্দিষ্ট সময়ে এত নথিপত্র জোগাড় করা সম্ভব না হওয়ায় অভিষেকের সংস্থা ‘লিপ্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ আরও ১০ দিনের অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানায়। পুর কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন মঞ্জুর করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র জমা না দিলে পুর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রাসী প্রচার এবং আলঙ্কারিক ভাষার অতি-ব্যবহারই মূলত এই আইনি জটিলতার মূল কারণ। তবে এই ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। একদিকে বারবার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে আইনি টানাপোড়েন শাসক দলের ভাবমূর্তিকে বিরোধীদের সামনে কিছুটা দুর্বল করতে পারে, অন্যদিকে পুরসভার এই কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বাড়ি ভাঙার নোটিস বা আইনি তল্লাশির আশঙ্কা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *