শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক, রিভিউ মামলায় ডেডলাইন এক বছর বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক, রিভিউ মামলায় ডেডলাইন এক বছর বাড়াল সুপ্রিম কোর্ট

দেশজুড়ে কর্মরত শিক্ষকদের টেট (Teacher Eligibility Test) পাস বাধ্যতামূলক করার মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ পিটিশনের প্রেক্ষিতে শিক্ষকদের সামান্য স্বস্তি দিয়ে পরীক্ষায় সফল হওয়ার সময়সীমা মূল রায়ের থেকে আরও এক বছর বাড়িয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগস্ট, ২০২৮ সালের মধ্যে সমস্ত কর্মরত শিক্ষককে টেট পাস করতে হবে। অন্যথায় চাকরি ছাড়তে হবে বা বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের একাধিক রাজ্য এবং বেশ কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেই রিভিউ মামলার প্রেক্ষিতেই মূল রায়ের সময়সীমা এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর এজলাস। এর আগে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর এক রায়ে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছিল যে, কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টেট পাস করা বাধ্যতামূলক এবং এর জন্য দুই বছর সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন রায়ে কিছুটা সময় পাওয়ায় দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক সাময়িক স্বস্তি পেলেন।

বিপাকে দেশের ৩৩ লক্ষ ও রাজ্যের প্রবীণ শিক্ষকরা

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে গোটা দেশে প্রায় ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের টেট যোগ্যতা নেই। অথচ, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইন (RTE) এবং ২০১০ সালের এনসিটিই (NCTE)-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতা করার জন্য টেট পাস করা বাধ্যতামূলক। আগের রায়ে বলা হয়েছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাস করতে না পারলে চাকরি হারাতে হবে, তবে যেসব শিক্ষকদের অবসরের আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি, তাঁদের এই পরীক্ষার আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই নির্দেশিকা এক অভূতপূর্ব সঙ্কট তৈরি করেছে। রাজ্যে প্রথম টেট পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের জুলাই মাসে। ফলে ২০১১ সালের জুলাইয়ের আগে নিযুক্ত বহু শিক্ষক, যাঁরা ইতিমধ্যে ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে সফলভাবে শিক্ষকতা করে আসছেন, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই কোনও টেট পরীক্ষা দেননি। সুপ্রিম কোর্টের এই অনড় সিদ্ধান্তের জেরে এখন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রবীণ শিক্ষকদেরও নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে এবং ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে সফল হয়ে নিজেদের চাকরি বাঁচাতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব

শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে প্রাথমিক ও উচ্চ-প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এনসিটিই-র নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। তবে একই সঙ্গে, বহু বছর ধরে কর্মরত প্রবীণ শিক্ষকদের এই বয়সে এসে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসার মানসিক চাপ এবং নির্দিষ্ট সময়ে পাস না করতে পারলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যা স্কুল স্তরের স্বাভাবিক পঠনপাঠনকে প্রভাবিত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *