জীবদ্দশায় যে প্রাঙ্গণে ব্রাত্য, মরণোত্তর শ্রদ্ধায় সেই নন্দনই কাড়ল নজর!

জীবদ্দশায় যে প্রাঙ্গণে ব্রাত্য, মরণোত্তর শ্রদ্ধায় সেই নন্দনই কাড়ল নজর!

এক অদ্ভুত ও বিষাদময় বৈপরীত্যের সাক্ষী হয়ে রইল কলকাতার নন্দন চত্বর। যে সরকারি প্রেক্ষাগৃহে জীবদ্দশায় নিজের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অনুমতি পাননি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর প্রখ্যাত পরিচালক অনীক দত্ত, যেখানে তিনি কার্যত ব্রাত্য ছিলেন, শুক্রবার তাঁর অন্তিম যাত্রার মূল গন্তব্য হয়ে উঠল সেই নন্দনই। কাচের শববাহী গাড়িতে শায়িত পরিচালকের নশ্বর দেহকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এ দিন নন্দন প্রাঙ্গণে উপচে পড়েছিল টলিপাড়ার স্বজনদের ভিড়। ফুলের মালায় সুসজ্জিত ছবির সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে শেষ প্রণাম জানান উপস্থিত প্রত্যেকে, যেখানে বাবার শেষ সফরের ছায়াসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাঁর কন্যা।

শোকস্তব্ধ টলিপাড়া ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের শ্রদ্ধা

প্রিয় পরিচালককে শেষ বিদায় জানাতে চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নন্দনে হাজির হয়েছিলেন। অঞ্জন দত্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, বিদিপ্তা চক্রবর্তী থেকে শুরু করে লকেট চট্টোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীদের মতো তারকারা গভীর শোকে মূহ্যমান ছিলেন। বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে প্রয়াত পরিচালকের মরদেহ এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বামপন্থার প্রতি অনীক দত্তর আজীবন টান ও সুমধুর সম্পর্কের কারণে তাঁর শেষযাত্রায় সামিল হয়েছিলেন বামেদের শীর্ষ নেতৃত্বও। প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসু স্মৃতিচারণা করে জানান, চলচ্চিত্র শিল্পে ও সমাজ গঠনে অনীক দত্তর আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। তাই নন্দনে এনে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যথাযথ।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও স্বৈরাচারমুক্তির বার্তা

অনীক দত্তর প্রয়াণ ও নন্দন চত্বরের এই ঘটনা টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে গভীর প্রভাব ফেলেছে। বিগত সরকারের জমানায় এই পরিচালকের ছবি নন্দনে প্রদর্শনে বাধা পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নন্দন চত্বরে দাঁড়িয়েই কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপি সরকারের অভিনেতা-নেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিগত সরকার অনীক দত্তর যে সমস্ত ছবি নন্দনে দেখানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিল, বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই সব ছবি এই সরকারি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবে। এই ঘটনা আগামী দিনে চলচ্চিত্র জগতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং সম্পূর্ণ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ হওয়ার এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *