বিধানসভায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় কোপ, বিজেপিকে ফ্যাসিস্ট ও বাঙালি বিরোধী আখ্যা দিয়ে তোপ তৃণমূলের

বিধানসভায় সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় কোপ, বিজেপিকে ফ্যাসিস্ট ও বাঙালি বিরোধী আখ্যা দিয়ে তোপ তৃণমূলের

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় নগ্ন আঘাতের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। বিধানসভা ভবনে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার ও ঘোরাঘুরির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অলআউট আক্রমণে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির এই পদক্ষেপকে ‘ফ্যাসিস্ট’ এবং ‘বাঙালি বিরোধী’ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে এক্স হ্যান্ডেলে কড়া বিবৃতি জারি করেছে ঘাসফুল শিবির। দেশের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ মেয়াদে কোনো সাংবাদিক বৈঠক না করার প্রসঙ্গ টেনে এই নিষেধাজ্ঞা জারিকে স্বৈরাচারী ফতোয়া ও ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের বিরোধী দল।

বিতর্কের মূলে বিধানসভার নতুন নির্দেশিকা

মূল বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভা ভবনের তরফ থেকে জারি করা একটি বিশেষ নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে। বিধানসভার অধ্যক্ষের ওই নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টার এবং চিত্র সাংবাদিকদের বিধানসভার ভেতরে ঘোরাঘুরি না করে নির্দিষ্ট প্রেস কর্নার বা সংবাদমাধ্যম বিভাগেই অবস্থান করতে হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যেকোনো প্রেস ব্রিফিং বা সাংবাদিক সম্মেলন শুধুমাত্র ওই প্রেস কর্নারেই এবং স্পিকারের নির্ধারিত সময়েই করতে পারবেন। তবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মজয়ন্তী বা বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় রিপোর্টাররা নিচের লবিতে প্রবেশ করার অনুমতি পাবেন। এই নির্দেশ জারির পরই তৃণমূলের দাবি, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় সরকারের অপশাসন ও ব্যর্থতার ছবি ধরা পড়ার ভয়েই এই ‘সেন্সরশিপ’ জারি করা হয়েছে।

সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার মতো একটি পবিত্র এবং সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের গতিবিধি এভাবে সীমিত করার সিদ্ধান্ত এক গভীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে চলেছে। প্রথমত, এর ফলে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রশ্ন করার যে অবাধ সুযোগ এতদিন গণমাধ্যম পেত, তা অনেকাংশে খর্ব হবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য পাওয়ার অধিকার সংকুচিত হওয়ার কারণে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হবে ধোঁয়াশা। সর্বোপরি, সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করার এই স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এই কড়া অবস্থান আগামী দিনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত এবং রাজ্য রাজনীতির পারদকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *