হুট করে ভাঙা যাবে না বাড়ি, তিলজলা ও কসবায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিসে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ!

দক্ষিণ কলকাতার তিলজলা ও কসবা এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার তোড়জোড়ে বড়সড় ধাক্কা খেল কলকাতা পুরসভা। ওই এলাকার সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নোটিসের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুর কর্তৃপক্ষ চাইলেই হুট করে কোনও বাড়ি বা নির্মাণ ভেঙে ফেলতে পারবে না। উচ্ছেদ বা ভাঙার মতো চরম পদক্ষেপ করার আগে অবশ্যই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোতে হবে।
মালিক ও বাসিন্দাদের নোটিস দেওয়ার নির্দেশ
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন পুরসভাকে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার যে সব বাড়ি বা নির্মাণের বিরুদ্ধে বেআইনি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তার প্রতিটির মালিককে নোটিস পাঠাতে হবে। শুধু বাড়ির মালিকই নন, ওই সমস্ত নির্মাণে বসবাসকারী বাসিন্দা তথা ভাড়াটিয়াদেরও বাধ্যতামূলকভাবে নোটিস দিতে হবে কলকাতা পুরসভাকে। স্রেফ নোটিস পাঠিয়েই পুরসভা নিজের দায় এড়াতে পারবে না, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে আইনিভাবে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার অর্থাৎ আত্মপক্ষ সমর্থনের উপযুক্ত সুযোগ পান, তাও নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নোটিস পাঠানো এবং বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনার সমগ্র প্রক্রিয়াটি পুরসভাকে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
স্থগিতাদেশের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কসবা ও তিলজলা এলাকায় পুরসভার আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানের নোটিসে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি লঙ্ঘিত হচ্ছিল। কোনও পক্ষকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়ে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা রুখতেই আদালত এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
এই রায়ের ফলে কলকাতা পুরসভার স্বৈরাচারী বুলডোজার নীতি সাময়িকভাবে থমকে গেল। এর প্রভাব পড়বে শহরের অন্যান্য অংশের বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত মামলাগুলোতেও। পুরসভাকে এখন থেকে যে কোনও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সুনির্দিষ্টভাবে কোন অংশটি বেআইনি তা চিহ্নিত করতে হবে এবং নাগরিকদের আইনি সুরক্ষার অধিকারকে মান্যতা দিতে হবে। এর ফলে তিলজলা ও কসবার বহু সাধারণ বাসিন্দা ও ভাড়াটিয়া ঘরছাড়া হওয়ার হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন, অন্যদিকে পুরসভাকে এখন আইনি জটিলতা কাটিয়ে নিয়ম মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে।