জাপানে ঢুকতেই পারল না আলফানসো-ল্যাংড়া! স্বাস্থ্যপরীক্ষায় কী মিলল ভারতের আমে?

জাপানে ঢুকতেই পারল না আলফানসো-ল্যাংড়া! স্বাস্থ্যপরীক্ষায় কী মিলল ভারতের আমে?

চলতি গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মধ্যে আমজনতার স্বস্তির অন্যতম উৎস ফলের রাজা আম। তবে ভারতের আমপ্রেমীদের জন্য এবার এক উদ্বেগের খবর সামনে এসেছে। ভারতের জনপ্রিয় আলফানসো ও ল্যাংড়া আমের স্বাস্থ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেশি আম আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাপান সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেমন বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দেশের আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা, তেমনই দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া আমের গুণগত মান নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

যে কারণে নিষিদ্ধ হলো ভারতের আম

জাপান সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সেদেশে আম আমদানির আগে তা সম্পূর্ণ পোকা ও জীবাণুমুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এর জন্য ভারতের মাটিতেই ‘ভেপর হিট ট্রিটমেন্ট’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমের ভেতরে থাকা পোকা এবং তার লার্ভা ধ্বংস করার কাজ করা হয়। জাপানের কৃষিক্ষেত্রে যাতে ক্ষতিকর পোকার সংক্রমণ না ছড়ায়, সেজন্য এই পরীক্ষা অত্যন্ত কড়াকড়ির সঙ্গে করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি জাজল আধিকারিকরা দাবি করেছেন, ভারত থেকে পাঠানো আমগুলো যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না। এই স্বাস্থ্যপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার কারণেই শেষ পর্যন্ত আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে জাপান প্রশাসন।

ব্যবসায়িক ক্ষতি ও অভ্যন্তরীণ বাজারের ওপর প্রভাব

প্রতি বছর ভারত থেকে প্রায় ২.৮ কোটি মেট্রিক টন আম জাপানে রপ্তানি করা হতো। এই বিপুল পরিমাণ রপ্তানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের আলফানসো আমের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট মহলে প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মরশুমে এমনিতেই অতিরিক্ত গরমের কারণে আম চাষ ব্যাহত হয়েছিল, তার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। তবে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার কারণে উদ্বৃত্ত আম এখন দেশের বাজারেই বিক্রি হবে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে আমের দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশের আমজনতার মনে নতুন এক সংশয় দেখা দিয়েছে। যে আম বিষাক্ত ও জীবাণুযুক্ত বলে জাপান ফিরিয়ে দিল, সেই আমই কি এখন দেশের বাজারে দেদার বিক্রি হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আমে থাকা পোকা বা লার্ভার কারণে মানবদেহে মারাত্মক কোনো ক্ষতি না হলেও পেট ব্যথা, বমি, গা গুলানো কিংবা অ্যালার্জির মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *