সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই নজিরবিহীন হেনস্থার ঘটনায় রাজ্যে লাগাতার চলতে থাকা রাজনৈতিক হিংসার তীব্র নিন্দা করার পাশাপাশি শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

শনিবার সোনারপুরে ভোটপরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে পৌঁছানোমাত্রই তিনি আকস্মিক জনরোষের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো, ডিম এবং পাথর ছোড়ে, পাশাপাশি চলতে থাকে স্লোগান। উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাথায় হেলমেট পরতে বাধ্য হন এবং ধস্তাধস্তিতে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায়। পরবর্তীতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যে প্রশাসন ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

হামলার কারণ ও তৃণমূলের অভিযোগ

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, এই হামলা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং এর পেছনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরাসরি যোগ রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের কথা আগে থেকে জানতে পেরেই বিরোধীরা এই ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য প্রস্তুত ছিল বলে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। শাসকদল এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পেছনে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও স্থানীয় স্তরের অসন্তোষের বিষয়টিকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অধীরের কটাক্ষ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অধীররঞ্জন চৌধুরী বলেন, বাংলায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং একজন জনপ্রতিনিধির ওপর শারীরিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে তৃণমূলের বুথ স্তরের সংগঠনকে খোঁচা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে নেতা রেকর্ড ৭ লক্ষ ভোটে জিতেছেন, তাঁর ওপর হামলার সময় স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা কেন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন না।

এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের নিরাপত্তা বলয় এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। শীর্ষ নেতার ওপর এমন হামলার পর তৃণমূলের অন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধী দলগুলি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির তত্ত্বকে আরও জোরালোভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার সুযোগ পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *