গ্রেফতারের ভয়ে নজিরবিহীন ভোলবদল! মাথাভাঙায় প্রকাশ্য মাঠে ডেকে কাটমানি ফেরাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের পরিবার

গ্রেফতারের ভয়ে নজিরবিহীন ভোলবদল! মাথাভাঙায় প্রকাশ্য মাঠে ডেকে কাটমানি ফেরাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের পরিবার

রাজ্য জুড়ে দুর্নীতির অভিযোগে একের পর এক নেতার জেলযাত্রার পর এবার নজিরবিহীন আতঙ্ক গ্রাস করেছে কোচবিহারের মাথাভাঙার শাসকদলকে। জনরোষ ও আইনি পদক্ষেপের হাত থেকে বাঁচতে প্রকাশ্য মাঠে গ্রামবাসীদের ডেকে টাকা ফেরত দেওয়ার হিড়িক শুরু হয়েছে। রবিবারের এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে মাথাভাঙা-১ ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়তের ফকিরেরকুঠি এলাকায়। অনেক নেতা গ্রেফতারের ভয়ে এলাকাছাড়া হলেও, তাঁদের হয়ে বৃদ্ধ বাবারা এগিয়ে এসে দুর্নীতির টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

স্কুলমাঠে প্রকাশ্য দরবার ও টাকা ফেরতের হিড়িক

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ফকিরেরকুঠি এলাকায় আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে জমি কেনাবেচা, এমনকি কারণে-অকারণে ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ও কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই গণপিটুনি ও আইনি ব্যবস্থার ভয়ে অভিযুক্ত নেতারা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার ফকিরেরকুঠি এলাকার একটি স্কুলমাঠে গ্রামবাসীদের জড়ো করা হয়। সেখানে পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়তের তৃণমূল বুথ সভাপতি তপন দে নিজে উপস্থিত থেকে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীর টাকা হাতেনাতে ফেরত দেন। অন্যদিকে, এলাকার অত্যন্ত ‘প্রভাবশালী’ ঘরছাড়া তৃণমূল নেতা বাবাই বর্মণের অনুপস্থিতিতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা সভাস্থলে হাজির হয়ে ছেলের হয়ে গ্রামবাসীদের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দেন।

বিজেপি করার ‘অপরাধে’ জরিমানা, তদন্তের দাবি বিরোধীদের

টাকা ফেরত পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। এক বাসিন্দা জানান, জমির ঝামেলা মেটানোর নামে টাকা নিয়ে কোনো কাজ না করায় শেষ পর্যন্ত নাম লিখিয়ে টাকা ফেরত পেয়েছেন। আবার কয়েকজন যুবকের দাবি, তাঁরা বিজেপি সমর্থক হওয়ায় ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলা হয়েছিল, যা এদিন ফেরত দেওয়া হয়। বিজেপির মাথাভাঙা-৪ মণ্ডলের সভাপতি সুরেন্দ্র বর্মণ দাবি করেছেন, পঞ্চায়েত সদস্যসহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন। এখন ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে বাধ্য হয়ে তাঁরা টাকা ফেরত দিচ্ছেন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার মূল কারণ হলো রাজ্য জুড়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রভাব। আইনি গ্রেফতারি এড়ানো এবং গণরোষ থেকে পিঠ বাঁচাতেই নেতারা এই কৌশল নিয়েছেন। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে কাটমানি ফেরত দেওয়ার এই ঘটনা দুর্নীতির অভিযোগকে একপ্রকার সিলমোহর দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যা আগামী দিনে শাসকদলের ভাবমূর্তি আরও সংকটে ফেলতে পারে এবং বিরোধীদের হাত শক্ত করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *