LPG কানেকশন কি বাতিল হতে পারে? হাতে সময় মাত্র ৩০ দিন, জরুরি নিয়ম জারি করল সরকার!
পিএনজি সংযোগ থাকলে এলপিজি সিলিন্ডার জমা দিন নতুবা বাতিল হবে সংযোগ
জুন মাসের শুরুতেই এলপিজি সিলিন্ডার সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব গ্রাহকের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ রয়েছে, তাদের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারের সুযোগ আর থাকছে না। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, পিএনজি সংযোগ সক্রিয় হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাহকদের তাদের বর্তমান এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে এলপিজি সংযোগ বাতিল করা হবে।
দ্বৈত সংযোগ বন্ধে সরকারের কড়াকড়ি
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে মোদী সরকার ‘এক পরিবার এক সংযোগ’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নতুন পিএনজি সংযোগ দেওয়া হলেও দেখা গেছে, অনেক পরিবারই পিএনজি নেওয়ার পরেও এলপিজি সিলিন্ডার সমর্পণ করেনি। এই দ্বৈত ব্যবহার বন্ধ করতেই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব এলাকায় গ্যাস গ্রিড চালু রয়েছে, সেখানে পর্যায়ক্রমে এলপিজি সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সিলিন্ডার জমা ও পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া
গ্রাহকদের এই রূপান্তরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো অর্থাৎ ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত গ্যাস এবং এইচপি গ্যাস বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। গ্রাহকরা এখন ওএমসি (OMC) বা সংযোগ ট্রান্সফার ভাউচারের মাধ্যমে তাদের এলপিজি সিলিন্ডার নিরাপদে ফেরত দিতে পারবেন। এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, যদি কোনো গ্রাহক ভবিষ্যতে এমন কোনো এলাকায় স্থানান্তরিত হন যেখানে পিএনজি সংযোগ নেই, তবে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিজেদের এলপিজি সংযোগটি চালু করার অধিকার পাবেন। এদিকে, নতুন এই নিয়মের পাশাপাশি জুন মাসের প্রথম দিন থেকেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা সরাসরি বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।