ধুরন্ধর ২ সিনেমা নিয়ে ক্ষুব্ধ ডি কো ম্পা নি, মুম্বইয়ে আবারও বাড়ল মাফিয়াদের তৎপরতা

বলিউডের সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাই থ্রিলার ‘ধুরন্ধর-২: রিভেঞ্জ’ সিনেমাটি ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড। ছবিটিতে ‘বড়সাহেব’ নামের একটি চরিত্রকে দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে করাচিতে আশ্রয় নেওয়া ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের চেহারা ও বাচনভঙ্গির হুবহু মিল রয়েছে। ছবিতে দেখানো হয়েছে যে, পাকিস্তানের মৃত্যুশয্যায় শুয়েও এই চরিত্রটি ভারতবিরোধী নাশকতায় মদত দিচ্ছে। সিনেমাটির এই চিত্রায়ণ এবং এর বিপুল বক্স অফিস সাফল্যের পরেই পরিচালক আদিত্য ধর ও তাঁর টিমের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছে দাউদ ইব্রাহিমের ডি কো ম্পা নি।
মুম্বইয়ে সক্রিয়তা বৃদ্ধির আসল উদ্দেশ্য
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই সিনেমার পর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ে নতুন করে নিজেদের সক্রিয়তা বাড়াতে শুরু করেছে ডি কো ম্পা নি। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজেদের ‘উপস্থিতি’ এবং শক্তি পুনরুত্থাপন করা। দাউদ ইব্রাহিম এখনও পুরোপুরি সুস্থ ও সক্রিয় আছেন— এই বার্তাটি দিতেই মূলত মরিয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ, অস্ত্র ও জাল নোট পাচারসহ একাধিক নাশকতায় যুক্ত দাউদ দীর্ঘদিন ধরেই করাচিতে অবস্থান করছেন। পাক সেনা ও প্রশাসনের নাকের ডগায় আইএসআইয়ের কড়া নিরাপত্তায় তিনি রয়েছেন বলে ভারতের পক্ষ থেকে একাধিক প্রমাণ দেওয়া হলেও, পাকিস্তান তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
নেপথ্যের কুশীলব ও নতুন আশঙ্কার মেঘ
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ডি কো ম্পা নির বর্তমান তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছেন দাউদের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড শাকিল শেখ ওরফে ছোটা শাকিল, দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম ওরফে ছোটা আনিস এবং জাভেদ চিকনা ও টাইগার মেমনের মতো কুখ্যাত অপরাধীরা। মুম্বইয়ে তাদের পুরোনো গ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক আবার সচল করার চেষ্টা চলছে। নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক বিস্তারের এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দাউদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত শার্প শুটার মুন্না জিঙ্গাদাকে। মাফিয়াদের এই আকস্মিক তৎপরতার কারণে মুম্বইয়ে বড় ধরনের কোনও নতুন সন্ত্রাসবাদী হামলার বা নাশকতার ছক তৈরি হতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা।