শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পিএসও-র তাণ্ডব! নাবালিকা কন্যা ও মহিলাকে হেনস্থা, গ্রেফতার অভিযুক্ত

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পিএসও-র তাণ্ডব! নাবালিকা কন্যাকে হেনস্থা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা পিএসও সঞ্জু শর্মাকে ঘিরে এক বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক মহিলা এবং তাঁর নাবালিকা কন্যাকে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগের ভিত্তিতে রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ছুটি নিয়ে বিবাদ থেকে হিংসার পথ
ঘটনার সূত্রপাত হয় পিএসও সঞ্জু শর্মার ছুটির দাবিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই নিরাপত্তারক্ষী দাবি করেছিলেন টানা ১৫ দিন কাজের পর তাঁকে ১৫ দিন ছুটি দিতে হবে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তরফে জানানো হয়, সরকারি নিয়ম মেনে এভাবে ছুটি দেওয়া সম্ভব নয়। এই নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত হয়। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ শোভন চট্টোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক ছিল। সেই সময় পিএসও সঞ্জুকে ফোন করা হলে তিনি অত্যন্ত অসংলগ্ন আচরণ করেন এবং কাজে আসতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে, প্রাক্তন মেয়রের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে ওই রক্ষী তাণ্ডব শুরু করেন বলে অভিযোগ।
নির্যাতন ও গ্রেফতারের প্রেক্ষাপট
আক্রান্ত মহিলার বয়ান অনুযায়ী, পিএসও সঞ্জু শর্মা শুধু নাবালিকা কন্যার সঙ্গেই অভব্য আচরণ করেননি, বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদেরও মারধর করেন। এরপর অভিযোগকারিণীকে টেনে হিঁচড়ে একটি বেডরুমে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। নির্যাতিতার মেয়ের সামনেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা সম্প্রতি কমানো হয়েছে, যার জেরে কর্মীদের একাংশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অস্বস্তি কাজ করছিল। ঠিক কী কারণে একজন দায়িত্বশীল নিরাপত্তারক্ষী এমন বেপরোয়া হয়ে উঠলেন, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত সঞ্জু শর্মা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।