“এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!” ঋতব্রত-সন্দীপনকে তুলোধনা কুণালের

তৃণমূলের প্রতীকে জিতেই বিশ্বাসঘাতকতা! দুই বিধায়কের বহিষ্কারে ফুঁসছেন কুণাল
বিধানসভায় দলের জয়ী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা। নিজেদের সই জাল করার অভিযোগ তুলে বিধানসভার স্পিকারের কাছে দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই দুই বিধায়ক। এই ঘটনার জেরে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সত্য উদঘাটন করার পরই দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাঁদের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে সরব কুণাল
বিধানসভার বাইরে কুণাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করেন যে, যে দলের চিহ্নে জিতে তাঁরা বিধানসভায় গিয়েছেন, সেই দলের বিপদে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চরম কাপুরুষতা। কুণাল বলেন, দলের প্রতীকে জেতার ২০ দিনের মধ্যেই বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর মতে, দলের অন্দরে কোনো ক্ষোভ থাকলে তা নেতৃত্বের সামনে প্রকাশ করা যেত, কিন্তু গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো রাজনৈতিক অসাধুতার শামিল।
রাজনীতিতে ক্ষমতার দাবার চাল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই দলের বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নেওয়ার পেছনে ক্ষমতার রাজনীতির সমীকরণ কাজ করছে। সরকার পরিবর্তনের ফলে যারা নিজেদের অবস্থান সুনিশ্চিত করতে চাইছে, তাদের এই আচরণকে ‘সুযোগসন্ধানী’ হিসেবেই দেখছে তৃণমূল। কুণালের দাবি, দলের দুর্দিনে যারা পাশে নেই এবং গাজর দেখে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন, তাঁদের আসল মুখোশ খুলে পড়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সিপিএম পর্বের পরেও দল তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার লোভে তিনি বারবার বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন।
এই ঘটনার প্রভাব তৃণমূলের অন্দরে সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দল ভাঙার এই প্রবণতা আটকাতে তৃণমূল নেত্রী যে দলকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করবেন, তা কুণালের মন্তব্যে স্পষ্ট। একইসঙ্গে, সদ্য নির্বাচিত বিধায়কদের এই দলবিরোধী অবস্থান সাধারণ কর্মীদের মধ্যে দলের প্রতি আনুগত্যের সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।