রক্তাক্ত স্মৃতি বনাম উৎসবের সংযম, ট্রফি জিতলেও বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এবার বিজয়োল্লাস করছেন না কোহলিরা

রক্তাক্ত স্মৃতি বনাম উৎসবের সংযম, ট্রফি জিতলেও বেঙ্গালুরুর রাস্তায় এবার বিজয়োল্লাস করছেন না কোহলিরা

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। মাঠের পারফরম্যান্সে উৎসবের আবহ থাকলেও এবার আর বেঙ্গালুরুর রাজপথে ট্রফি নিয়ে কোনো বর্ণাঢ্য বিজয়োল্লাস বা শোভাযাত্রায় দেখা যাবে না বিরাট কোহলিদের। গত বছরের একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এবং শহরের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই আরসিবি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছর প্রথমবারের মতো আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ট্রফি নিয়ে বেঙ্গালুরুতে এক বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। কোহলির ঘোষণার পর লাখো সমর্থক সকাল থেকেই রাস্তায় ভিড় জমান। কিন্তু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে সেই বিপুল জনস্রোত ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফলে ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা, যাতে প্রাণ হারান ১১ জন সমর্থক এবং আহত হন অন্তত ৫০ জন। সেই রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও বেঙ্গালুরুবাসীর মনে দগদগে। ওই ঘটনার পর দীর্ঘদিন চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন বন্ধ ছিল এবং চলতি মৌসুমেও সেখানে মাত্র চারটি ম্যাচ আয়োজিত হয়েছে, তাও কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াই। এমনকি নিহতদের স্মরণে স্টেডিয়ামে ১১টি আসন স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা ও মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ

আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখতে কর্নাটক সরকার, আদালত এবং পুলিশ এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শহরের পুলিশ কমিশনার সীমন্ত কুমার সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সমর্থকদের রাস্তায় নেমে উল্লাস করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে বা ব্যক্তিগত কোনো জায়গায় উৎসব করা যেতে পারে, কিন্তু রাজপথে জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এর পাশাপাশি একটি বড় প্রশাসনিক কারণও রয়েছে। কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ডিকে শিবকুমারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে লোক ভবনে। এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের কারণে লোক ভবন ও তার নিকটবর্তী চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম এলাকায় এমনিতেই বিপুল মানুষের জমায়েত এবং ভিভিআইপি নিরাপত্তার কড়া বন্দোবস্ত থাকবে। ফলে একই সময়ে আরেকটি বড়মাপের ক্রিকেটীয় উৎসব বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা প্রশাসনের পক্ষে আসাম্ভব। বেঙ্গালুরু ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সরকারি ও আইনি সব নিয়মকানুন মেনেই তারা এবার জনসমক্ষে কোনো উদযাপনে যাচ্ছে না।

দলীয় সীমাবদ্ধতা ও ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা

উৎসব না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক ও সুরক্ষাজনিত কারণের পাশাপাশি দলের অন্দরের কিছু বাস্তব পরিস্থিতিও কাজ করছে। ফাইনাল জেতার পরপরই আরসিবির অধিকাংশ বিদেশি ক্রিকেটার নিজ নিজ দেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার উদ্দেশ্যে ভারত ছেড়েছেন। অন্যদিকে দেবদত্ত পড়িক্কলের মতো তারকা ভারতীয় ক্রিকেটাররা দ্রুতই জাতীয় টেস্ট দলে যোগ দিতে চলেছেন। সব মিলিয়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যেই ছোট পরিসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। ফলে গতবারের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে এবার ট্রফি জয়ের আনন্দ মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখছেন বিরাট কোহলিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *