টিকিট ছাড়াই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখবেন ১৪ হাজার দর্শক!

বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এর মাঝেই বিশ্বজুড়ে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ চলছে, ঠিক তখনই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এল এক অবিশ্বাস্য সুখবর। কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মাঠে বসে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক। প্রায় ছয় দশক পুরোনো একটি ঐতিহাসিক চুক্তির আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে নিজেদের এই অনন্য অধিকার ফিরে পেয়েছেন তারা।
আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে ফুটবল বিশ্বকাপের। প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ আয়োজনের অনন্য কীর্তি গড়তে যাওয়া এই স্টেডিয়ামেই টিকিট ছাড়া খেলা দেখার এই বিরল দৃশ্য দেখা যাবে।
ছয় দশকের পুরোনো চুক্তি ও দীর্ঘ আইনি লড়াই
বিনামূল্যে খেলা দেখার এই সুযোগ কোনো লটারি বা আকস্মিক উপহার নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ষাটের দশকের এক ব্যতিক্রমী ইতিহাস। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় তীব্র অর্থসংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সংকট কাটাতে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০০টি বক্স এবং ৮ হাজারের বেশি গ্যালারির আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের সাথে চুক্তি হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত যেকোনো খেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তারা কোনো অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন। সেই থেকে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টেও এই আসনের মালিকরা বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার পেয়ে আসছেন।
তবে এবারের আসরকে কেন্দ্র করে ফিফা এবং স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এই আসনগুলোকে নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে বিরোধ চরমে পৌঁছায়। আসন মালিকদের সংগঠন বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় বজায় রাখে।
ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ও আসরে এর প্রভাব
এর আগেও ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ফিফা এই আসনগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে সেবার দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র মতো ঐতিহাসিক ম্যাচগুলো এই ১৪ হাজার দর্শক বিনামূল্যে গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন। ২০২৬ সালেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে ফিফা বিপুল পরিমাণ টিকিট রাজস্ব হারালেও, এটি সাধারণ দর্শক ও চুক্তিদাতাদের আইনি অধিকারের এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্যিকীকরণের এই যুগে স্টেডিয়ামের শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ও আইনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা পাওয়ায় ফুটবল বিশ্বে এই ঘটনাটি এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।