স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের জের, হাসনাবাদে পুলিশের সামনেই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মারধর

স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের জের, হাসনাবাদে পুলিশের সামনেই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে মারধর

উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ থানার রূপমারি গ্রামে এক গৃহবধূকে পুলিশের সামনেই বেধড়ক মারধর ও বিবস্ত্র করার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই চরম আইন অমান্যের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ও সালিশি সভা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রূপমারি গ্রামের বাসিন্দা কুন্তল মণ্ডলের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে পাশের গ্রামের সাথী মণ্ডলের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি তিন বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। কুন্তল কর্মসূত্রে বাইরে থাকার সুযোগে সাথী একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে গ্রামবাসীদের দাবি। এই নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশি সভাও বসে। পরবর্তীকালে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের নির্দেশে এদিন হাসনাবাদ থানার পুলিশ রূপমারি গ্রামে গিয়ে সাথীর সমস্ত আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র উদ্ধার করে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশের সামনেই গণপ্রহার

পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘর থেকে মালপত্র নিয়ে বেরোনোর সময় আচমকা উত্তেজিত গ্রামবাসী ও স্বামীর পরিবারের লোকজন সাথীর ওপর চড়াও হয়। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই ওই গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তাঁর জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে চরম অভব্য আচরণ করা হয়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা কোনওরকমে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্তাক্ত ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। অন্যদিকে, সাথীর মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কুন্তল তাঁর মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত।

আইন শৃঙ্খলার অবনতি ও প্রভাব

এই ঘটনার পর রূপমারি গ্রাম জুড়ে ব্যাপক থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নারীর ওপর এই ধরনের পাশবিক নির্যাতন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাসনাবাদ থানার পুলিশ তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *