মালদহের পর এবার মুর্শিদাবাদ, লালগোলা হোল্ডিং সেন্টার থেকে ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করল বিএসএফ

মালদহের পর এবার মুর্শিদাবাদ, লালগোলা হোল্ডিং সেন্টার থেকে ১৭ অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করল বিএসএফ

সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে ভারতের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ নীতি এবার আরও জোরদার রূপ নিচ্ছে। মালদহের পর এবার পটভূমি মুর্শিদাবাদ। শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদের লালগোলার ‘হোল্ডিং সেন্টার’ থেকে ১৭ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোশনবাগ বিএসএফ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। তবে ঠিক কোন সীমান্ত দিয়ে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে খোলসা করেনি বিএসএফ।

লালগোলায় নতুন হোল্ডিং সেন্টার চালুর পর এই প্রথম বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ডিপোর্ট করার ঘটনা ঘটল। ফেরত পাঠানো সকলেই পুরুষ এবং প্রাপ্তবয়স্ক। এর আগে গত শুক্রবার মালদহের ইংলিশবাজারের হোল্ডিং সেন্টার থেকে ৯ জন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। লালগোলার পদ্মা ভবনের এই সেন্টারে মোট ২৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক স্থান পেয়েছিলেন, যাদের মধ্যে প্রথম দফায় ১৭ জনকে পুশব্যাক করা হল এবং বর্তমানে আরও ৯ জন সেখানে বন্দি রয়েছেন।

অনুপ্রবেশের ধরন ও আটকের প্রেক্ষাপট

ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম শহিদুল ইসলাম, যাকে গত ২৬ মে গভীর রাতে সুতি থানার পুলিশ মহেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশের শিবগঞ্জের বাসিন্দা শহিদুল প্রায় এক বছর আগে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসেন এবং স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ে করে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ ছাড়া, কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ শেষে ইদের আগে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পথে বিদুপুর থেকে সাতজন এবং মুকিমনগর এলাকা থেকে আরও দুইজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এই হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছিল।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

জেলায় ক্রমাগত ধরপাকড়ের জেরে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় লালগোলার পদ্মা ভবনের পাশাপাশি নতুন হোল্ডিং সেন্টার তৈরির তৎপরতা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এই পুশব্যাক প্রক্রিয়ার পেছনে মূল কারণ হলো সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং অবৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। তবে এর সম্ভাব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, বাংলাদেশি ধরার নামে যেন কোনো সাধারণ ভারতীয় বা বাংলার মানুষ অত্যাচারের শিকার না হন। মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকারও সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে যাতে কোনো আতঙ্ক না ছড়ায়, সেদিকে নজর রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশির বসবাসের বিষয়টি প্রমাণিত হলো, যারা স্থানীয় মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *