হলিউডি কোলাহল ছেড়ে ডেনভারের নিভৃত জীবন, মাধুরীর পরিচয় পেয়ে প্রতিবেশীদের পুলিশ ডাকার উপক্রম!

হলিউডি কোলাহল ছেড়ে ডেনভারের নিভৃত জীবন, মাধুরীর পরিচয় পেয়ে প্রতিবেশীদের পুলিশ ডাকার উপক্রম!

বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিতের জনপ্রিয়তার পরিধি আকাশচুম্বী। তবে কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভারে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতো কাটানো জীবনকে তিনি সবসময়ই সেরা সময় বলে মনে করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই অজানাই অধ্যায় এবং কীভাবে একদিন তাঁর তারকা পরিচয় প্রতিবেশীদের সামনে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।

সাধারণ গৃহবধূ থেকে ‘মিসেস নেনে’ হয়ে ওঠার দিনগুলি

বিয়ের পর দীর্ঘ সময় আমেরিকার ডেনভারে কাটিয়েছেন মাধুরী দীক্ষিত। সেখানে তাঁর জীবন ছিল তারকা দ্যুতিহীন, অত্যন্ত সহজ ও স্বাভাবিক। ডেনভারে ভারতীয়দের সংখ্যা কম থাকায় বেশিরভাগ আমেরিকান প্রতিবেশীই জানতেন না যে তাঁদের পাশেই থাকছেন ভারতের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী। সেখানে তিনি কেবলই ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ তথা ‘মিসেস নেনে’। নিজের দুই সন্তান অরিন ও রায়ানকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া, তাঁদের দেখভাল করা এবং ঘরের কাজ করার এই সাধারণ জীবনযাপন দারুণ উপভোগ করেছিলেন মাধুরী। এমনকি তাঁর স্বামী শ্রীরাম নেনেও বিয়ের আগে পুরোপুরি জানতেন না যে ভারতে তাঁর স্ত্রীর পরিচিতি ঠিক কতটা বিশাল।

গাড়ি নিয়ে সন্দেহ এবং প্রতিবেশীদের পুলিশ ডাকার চেষ্টা

মাধুরীর এই শান্ত ও নিভৃত জীবনে হঠাৎই একদিন ছন্দপতন ঘটে। একদিন তাঁর বাড়ির সামনে একটি অচেনা গাড়িকে বারবার চক্কর কাটতে দেখেন প্রতিবেশীরা। বিষয়টিকে চোরের উপদ্রব বা সন্দেহভাজন কোনো অপরাধীর আনাগোনা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা এবং মাধুরীর সুরক্ষার্থে পুলিশে খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাধ্য হয়েই মাধুরী প্রতিবেশীদের কাছে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে তিনি একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা এবং বাড়ির বাইরে গাড়ি নিয়ে ঘোরা ব্যক্তিরা আসলে চোর নয়, বরং তাঁর অনুরাগী।

তারকা খ্যাতির আড়ালে স্বাধীনতার স্বাদ

পেশাদার জীবনের তুমুল ব্যস্ততা আর ক্যামেরা ও নিরাপত্তার কড়াকড়ি থেকে দূরে ডেনভারের সেই দিনগুলোকে জীবনের অন্যতম সেরা এবং মুক্ত সময় বলে মনে করেন অভিনেত্রী। নিজের মতো করে সন্তানদের সময় দেওয়া এবং স্বাধীনভাবে যেকোনো কাজ করতে পারার সেই সুযোগকে তিনি নিজের একটি বড় স্বপ্নের পূরণ হিসেবেই দেখেন। এই ঘটনার পরই মূলত মার্কিন মুলুকে তাঁর অতি সাধারণ ও আড়ালে থাকা জীবনের অবসান ঘটে এবং প্রতিবেশীরা জানতে পারেন তাঁদের সাধারণ প্রতিবেশী আসলে এক বিশ্বখ্যাত তারকা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *