ভোট-বিপর্যয়ের পর তীব্র ভাঙন-আতঙ্ক তৃণমূলে, বৈঠকে ৬০ বিধায়কের গরহাজিরার পর বিস্ফোরক মমতা!

ভোট-বিপর্যয়ের পর তীব্র ভাঙন-আতঙ্ক তৃণমূলে, বৈঠকে ৬০ বিধায়কের গরহাজিরার পর বিস্ফোরক মমতা!

সাম্প্রতিক ভোট-বিপর্যয়ের পর তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দলীয় বৈঠকে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি এই ভাঙনের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দলের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং বিধায়কদের দলবদল রুখতে সোমবারে স্বয়ং দলীয় নেত্রীকে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দিতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে ইতিমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা নামে দুই বিধায়ককে বহিষ্কারও করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

পুলিশ ও টাকার খেলা

দলীয় বৈঠকে বিপুল সংখ্যক বিধায়কের গরহাজিরার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, পুলিশ এবং বিপুল অর্থকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। নেত্রীর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর মদতে পুলিশের একাংশকে এই চক্রান্তের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিধায়কদের ভয় দেখানো হচ্ছে যে, বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন বা মাদক পাচারের মতো গুরুতর মামলা দেওয়া হবে। ভয় দেখানোর এই প্রাথমিক প্রক্রিয়াটি পুলিশ সম্পন্ন করার পরই সরাসরি বিজেপি কার্যালয় থেকে বিধায়কদের কাছে ফোন যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

তৃণমূলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংগঠনে একটি বড় ধাক্কা। লোকসভা বা বিধানসভা স্তরের কোনো বড় পরাজয়ের পর যেখানে দলের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন, সেখানে ৬০ জন বিধায়কের বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া দলের ভেতরের গভীর ফাটলকেই স্পষ্ট করে। একদিকে দলের দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করা এবং অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রীর “ভয়ের মুখে যারা পালাচ্ছেন তারা শুধু ক্ষমতা উপভোগ করতে চান” এমন কড়া মন্তব্য প্রমাণ করে যে দল এই মুহূর্তে চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কিছু শীর্ষ নেতা ক্ষমতার লোভে বা ভয়ে দল ছাড়লেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরাই তৃণমূলের আসল শক্তি। দলত্যাগী নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের টিকিটে জিতে আজ প্রতিকূল সময়ে যারা চক্রান্ত করছেন, কর্মীরা তাদের ক্ষমা করবেন না। তবে এই বিশাল ভাঙন রুখে শাসক দল কীভাবে আগামী দিনে নিজেদের পুনর্গঠন করে, সেটাই এখন রাজ্যের রাজনীতির মূল দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *