অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলায় ধৃতদের জামিন, ক্ষুব্ধ সাংসদ এবার যাচ্ছেন লোকসভার স্পিকারের দ্বারে!

সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্তার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এক দিনের জেল হেফাজত শেষে বারুইপুর মহকুমা আদালত আজ ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এবং তৃণমূল সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আইনি ও সংসদীয় স্তরে এই লড়াইকে আরও জোরদার করতে চলেছেন।
শনিবার সোনারপুরে এক নিহত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয় এবং তাঁকে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সোনারপুর থানার পুলিশ রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস দত্ত, নির্মাল্য সেনগুপ্ত ও তপন মাইতিসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার পুলিশ ধৃতদের ১৪ দিনের হেফাজত চাইলেও আদালত মাত্র ১ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছিল এবং আজ তাঁদের জামিন দেওয়া হয়।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ক্ষোভের কারণ
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ধৃতরা রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আকাশ গায়েন মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা একসময় স্থানীয় প্রাক্তন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ এবং শাসকদলেরই সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলেরই একাংশের এই ধরনের আচরণ এবং ঘটনার পর দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়া তৃণমূল শিবিরের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাতীয় স্তরে প্রতিবাদের প্রস্তুতি
নিজেদের সাংসদের ওপর এমন নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পর রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যেতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে, এই হেনস্তার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলগুলোকে পাশে পেতে এবং ঘটনার তীব্রতা বোঝাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। স্পিকারের কাছে গোটা ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি, এই হামলার নেপথ্যে থাকা মূল ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবিতে তৃণমূল নেতৃত্ব আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।