সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা, ১১ জনের বিরুদ্ধে বিজেপি যোগের বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের

সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা, ১১ জনের বিরুদ্ধে বিজেপি যোগের বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের

সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় এল। শনিবারের এই ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি এবং বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে মোট ১১ জন হামলাকারীকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। শাসকদলের স্পষ্ট দাবি, ধৃত এবং অভিযুক্তদের সিংহভাগই গেরুয়া শিবিরের সক্রিয় কর্মী ও নেতা। ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

হামলার নেপথ্যে গেরুয়া যোগের দাবি ও মূল চক্রী

তৃণমূলের পক্ষ থেকে থানায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে নির্দিষ্টভাবে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় বিজেপি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। অভিযোগ অনুযায়ী, সুস্মিতা দত্ত (জেলা বিজেপি সদস্য), তিয়াসা বিশ্বাস (মণ্ডল সভানেত্রী) এবং জেলা কো-অর্ডিনেটর অভিজিৎ বিশ্বাস সহ বেশ কয়েকজন এই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ও ভিডিও ফুটেজের সূত্রে তৃণমূল দাবি করেছে, অভিজিৎ বিশ্বাসের নেতৃত্বেই সেদিন সুপরিকল্পিতভাবে সাংসদের উপর চড়াও হওয়া হয়েছিল। ডিম, জুতো এবং ইট-পাটকেল ছুঁড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ আটকানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ।

পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার পর শাসকদলের অন্দরের ক্ষোভ যেমন প্রকাশ পেয়েছে, তেমনই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও। তৃণমূলের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব নির্ধারিত সূচি মেনেই সোনারপুরের কামরাবাঁধে গিয়েছিলেন। দুপুর থেকেই সেখানে হামলাকারীরা ডিম ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হচ্ছিল বলে খবর থাকা সত্ত্বেও বারুইপুর জেলা পুলিশ এবং সোনারপুর থানার আইসি কোনো সদর্থক ভূমিকা নেননি। এই চরম গাফিলতির কারণে পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার আইসি-কে তদন্তের আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি শাসক-বিরোধী তরজা এক অভূতপূর্ব মাত্রা নিতে চলেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার ফেসবুক লাইভে আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, সেদিন যেভাবে ইট ছোঁড়া হয়েছিল, তাতে হেলমেট না থাকলে মাথায় আঘাত লেগে চরম দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। বিরোধীদের এই আক্রমণাত্মক মনোভাবের পাল্টা জবাব দিতে তৃণমূল যে রাজনৈতিকভাবে ময়দানে নামছে, এই অভিযোগপত্র এবং প্রশাসনিক চাপ তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *