‘নেপালও ভারতের জমি দখল করেছে’! বালেন শাহের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল নেপাল, কী বলছে প্রশাসন?

‘নেপালও ভারতের জমি দখল করেছে’! বালেন শাহের বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাল নেপাল, কী বলছে প্রশাসন?

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদে জড়িয়ে নিজের দেশেই চাপে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ!

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। গত ৩১ মে পার্লামেন্টে দেওয়া তাঁর একটি বক্তব্য কেবল নেপালের রাজনৈতিক মহলেই নয়, বরং ভারত-নেপাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে শাহের এই অবস্থান তাঁর নিজের দেশেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।

ভারতের পাশাপাশি নেপালও কি জমি দখল করেছে?

পার্লামেন্টে নিজের ভাষণে বালেন শাহ দাবি করেন যে, ভারত যেমন নেপালের ভূখণ্ড দখল করেছে, তেমনই নেপালও বেশ কিছু স্থানে ভারতের জমি দখল করে রেখেছে। শুধু তাই নয়, এই পুরনো সীমান্ত সমস্যা সমাধানে তিনি ভারত ও নেপালের পাশাপাশি ব্রিটেন এবং চীনকেও আলোচনার টেবিলে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেহেতু এই সীমান্ত বিবাদের শিকড় ব্রিটিশ শাসনামলে প্রোথিত, তাই এর সমাধানে ব্রিটেনেরও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য নেপালের প্রচলিত সরকারি অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

নিজ দেশে তীব্র সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী

শাহের এই মন্তব্যের পর নেপালি কংগ্রেসে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলীয় নেতারা একে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমল থাপাসহ অনেক বিশিষ্ট নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবির সপক্ষে প্রমাণ চেয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবৃতি দিয়ে সাফাই গাইতে হয় যে, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যটি কোনো সরকারি দখলের কথা নয়, বরং সীমান্তবর্তী মানুষের যাতায়াত বা দৈনন্দিন ব্যবহারের বিষয়কে নির্দেশ করেছে।

সীমান্ত বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

ভারত ও নেপালের মধ্যে কালাজল, লিম্পিয়াধুরা ও লিপুলেখ অঞ্চল নিয়ে এই বিবাদ মূলত ১৮১৬ সালের সুগৌলি সন্ধি এবং কালি নদীর উৎসস্থল চিহ্নিতকরণকে কেন্দ্র করে। ভারত এই এলাকাকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করলেও নেপাল এটিকে তাদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নেপালের চিরাচরিত বিদেশ নীতির একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে। তবে বর্তমানে ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন দেখার বিষয়, কাঠমান্ডু ও নয়াদিল্লি এই কূটনৈতিক উত্তেজনাকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে কোনো নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *